বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ ● ভারতীয় ইলিশকে দেশীয় বলে বিক্রি, যশোরে আড়তদারকে জরিমানা
সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার ব্লিস হাসপাতালে ৪২ দিনের ব্যবধানে ফের অগ্নিকাণ্ড, আতঙ্কে রোগী ও স্বজন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত বেসরকারি ব্লিস হাসপাতালে ৪২ দিনের ব্যবধানে ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখার স্থান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় আগুনের চেয়ে ধোঁয়ায় বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে। অনেকে দ্রুত হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আশ্রয় নেন। কেউ রাস্তার পাশে ভ্যানের ওপর অবস্থান নেন, আবার কেউ অসুস্থ অবস্থায় হেঁটেই হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন।

অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় থাকা রোগী ও স্বজনরা দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেন। নার্সরা রোগীদের দ্রুত বের হওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় স্বজনরা অসুস্থ রোগীদের ধরে, কোলে করে কিংবা কয়েকজন মিলে নিচে নামিয়ে আনেন।

রোগীর স্বজন মতিয়ার রহমান বলেন, রাতে খাবার খাওয়ার পর রোগীকে ওষুধ খাওয়ানো শেষে তারা বসে ছিলেন। এর মধ্যে একজন নার্স এসে দ্রুত বের হয়ে যেতে বলেন। তিনি বলেন, ‘জিনিসপত্র থাক, মোবাইলটা নেন, দ্রুত বের হয়ে আসেন। ছয়তলায় সমস্যা হয়েছে।’ পরে রোগীকে নিয়ে নিচে নেমে ধোঁয়া দেখতে পান তারা। এতে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

আরেক রোগীর স্বজন জানান, আগের দিনই হাসপাতালে একজন নারীর সিজার হয়েছিল। রাতে হঠাৎ আগুনের খবর পেয়ে নার্সরা সবাইকে দ্রুত নিচে নেমে আসতে বলেন। তিনি বলেন, ‘যে যেভাবে আছো, নেমে এসো—এমন কথা বলা হচ্ছিল। ৮-১০ জন ধরে রোগী নিচে নিয়ে আসতে আসতে আমাদের জীবন শেষ। সবাই বলছে আগুন লাগছে, চিল্লাচিল্লি করছে, নার্সরাও আতঙ্কিত। পরে আমাদের রোগীকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

হাসপাতালের পাশের বাসিন্দা মো. ইদ্রিস আলী ময়না বলেন, রাত ১১টার দিকে তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় হঠাৎ জোরে শব্দ শুনে হাসপাতালের দিকে তাকিয়ে নিচের অংশ ধোঁয়ায় ভরে যেতে দেখেন।

তিনি বলেন, ‘আমার বাসা পাশে। কয়েকদিন আগে এখান থেকে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা বউ-ছেলেপেলে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি। এটা কীভাবে সমাধান হয়, সমাধানের পথ বের করতে হবে, যাতে আমরা ছেলেমেয়ে নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারি। এখানে কয়েকদিন পরপর এই পরিস্থিতি হচ্ছে। এটা নিয়ে আমরা আতঙ্কিত।’

সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. নুরুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, আগে যেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখা হতো, সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগের অগ্নিকাণ্ডেও একই স্থান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে জানান তিনি।

নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা এখানে আসি। উপস্থিত হয়ে দেখি, যেখানটায় অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিল, ওই জায়গা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। গতবার যেখানে সূত্রপাত হয়েছিল, এবারও একই জায়গায়। প্রথমে নিচে ঢুকে দেখি ধোঁয়ায় ভরা। পরে ভেতরে গিয়ে আগুন দেখতে পাই। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ধোঁয়ার কারণে রোগী ও স্বজনরা ভীত হয়ে তাড়াহুড়া করে নিচে নামছিলেন। পরে আগুনের ঝুঁকি না থাকায় তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। একসঙ্গে অনেক রোগী নিচে নামতে গেলে হুড়োহুড়িতে আহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

একই হাসপাতালে বারবার অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, হাসপাতালটি বড় এবং প্রতিটি ফ্লোরে অক্সিজেনের লাইন রয়েছে। ভবনের নিচে থাকা সিলিন্ডার থেকেই পুরো ব্যবস্থাটি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাঁর ধারণা, কারিগরি ত্রুটির কারণে অক্সিজেনের চাপ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়ে পাইপ ফেটে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে হাসপাতালে গেলে সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এর আগে গত ৪ আগস্ট একই হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট অংশ নেয়।

মাত্র ৪২ দিনের ব্যবধানে একই হাসপাতালে এবং একই স্থানে ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোগী-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। একই স্থানে বারবার আগুন লাগার কারণ, হাসপাতালের অক্সিজেন ব্যবস্থাপনা এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493