এম সাইফুল ইসলাম
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার যুবদল নেতা আজমল হোসেন লিটনকে ঘিরে ওঠা চাঁদাবাজি, জীবননাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে যে সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে, সেটির স্থান ও প্রেক্ষাপট নিয়েও দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি শান্তিনগর এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটলে স্থানীয় লোকজন চোর শনাক্ত ও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে যান। ওই সময় স্থানীয় যুবদল নেতা আজমল হোসেন লিটন এবং তার ভাই হাসান হাওলাদারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময়ের ঘটনাই সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত সেলিম ও তার জামাতা বটিয়াঘাটা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী ও একাধিক মামলার আসামি সোহাগ এর বাড়িতে চাদার দাবিতে হামলা ও হুমকি দাবি করে তারা ফেসবুকে পোস্ট করলেও তবে একই ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, সেটি সেলিম সরদারের বাড়ির নয়; বরং শান্তিনগর বাজার এলাকার একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ফুটেজে কাউকে হামলা বা চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে যেতে দেখা যায়নি। বরং চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে শনাক্ত এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য স্থানীয়দের সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের আরও দাবি, চুরির ঘটনায় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক মামলার আসামি সোহাগের নাম উল্লেখ করেন এবং চুরির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তবে এই স্বীকারোক্তির বিষয়ে কোনো লিখিত নথি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, সোহাগের বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মামলা থাকার বিষয়টি তারা জানেন। একইসঙ্গে সেলিম সরদার ও তার জামাতা মেহেদীকে নিয়েও এলাকায় বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “চোর ধরতে স্থানীয়রা গিয়েছিল। সেখানে আজমল লিটন ও তার ভাইও ছিলেন। এখন সেই ফুটেজকে অন্য ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হলে প্রকৃত ঘটনা আড়াল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
এদিকে অভিযোগের জেরে দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মী আজমল হোসেন লিটনকে কোনো ধরনের নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

