তুরান হোসেন রানা:
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার রায়পুর-বারআড়িয়া খেয়াঘাটে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্ধারিত টোলের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ঘাট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সরকারি নির্দেশনায় যেখানে যাত্রীপ্রতি ৫ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে শুক্রবার সাপ্তাহিক বাজারের দিনে ৮ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় যাত্রী ও সাধারণ মানুষের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র তিন দিন আগে খেয়াঘাটে সরকারি নির্ধারিত টোলের চার্ট টাঙানো হলেও এরই মধ্যে চার্টের কিছু অংশ কেটে ও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত টোলের পরিবর্তে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকি-ধমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
রায়পুর এলাকার জুয়েল শেখ বলেন, খেয়াঘাটে টোলের নির্ধারিত চার্ট টাঙানো হলেও সেটির কিছু অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং সরকারি নির্ধারিত টোলের পরিবর্তে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে।
পারাপারের যাত্রী আক্তারুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তিনটি টাকার জন্য আর কত নিচে নামবে এরা? সরকারিভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল ৫ টাকা, সেটাও কেটে-ছেঁটে ফেলে দিয়ে আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক বাজারের দিনে নেওয়া হচ্ছে ৮ টাকা। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলে দেওয়া হচ্ছে হুমকি-ধমকি।”
এদিকে খেয়াঘাটে টোল আদায়রত মাহাবুর শেখ ও নজরুল ইসলাম বলেন, “ইউএনও অফিস থেকে যে চার্ট টাঙানো হয়েছে, তা ২০১৮ সালের। এই রেটে আমাদের হচ্ছে না। আগামীকাল ইউএনও অফিসে আমরা আবার যাবো।”
ঘাটের ইজারাদার অরুণ দাসের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলো তা সম্ভব হয়নি।
সুরখালী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, “ইউএনও স্যারের নির্দেশনায় আমি রায়পুর-বারআড়িয়া ঘাটে টোল চার্ট টাঙিয়ে দিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু আজ শুনলাম, চার্টের কিছু অংশ কেউ কেটে ফেলেছে এবং টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।”
এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি বলেন, “লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরকারি নির্ধারিত টোলের তালিকা প্রকাশ্যে থাকার পরও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসন কীভাবে দেখছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এখন সেটিই দেখার বিষয়। একই সঙ্গে খেয়াঘাটে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী টোল আদায় নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

