খুলনা ব্যুরো:
খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি ও এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত আলামিন হাসান ওরফে সাইফিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। পৃথক অভিযানে গোপালগঞ্জ ও খুলনা থেকে তাদের গ্রেপ্তারের পর উদ্ধার করা হয়েছে দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং একাধিক ধারালো অস্ত্র।
গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন সাইফির সঙ্গে পূর্ববিরোধে জড়িত শিশু রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং জোড়া হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি সাগর আহম্মেদ।
র্যাব-৬ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার র্যাব-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোপালগঞ্জ সদর থানার মাঝিগাতী বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় আলোচিত জোড়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাইফি ও রাকিবকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও বিস্তৃত করা হয়। পরে খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার মোল্লাপাড়া বড়খালপাড় এলাকায় ফলোআপ অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি সাগর আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এরপর সাগরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকার জাহিদুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় একটি ওয়ান শুটার গান, একটি রিভলবার, এক রাউন্ড গুলি, দুটি চাপাতি এবং একটি কুড়াল।
এর আগে গত বুধবার খুলনা নগরীর লবণচরা এলাকায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রথম ঘটনায় সন্ধ্যার দিকে মঞ্জুরুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবককে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১০টার দিকে শিশুবাগান এলাকায় নাজমুল (১৯) নামে আরও এক যুবক একইভাবে হামলার শিকার হন। তাকেও গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
একই এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুই যুবক হত্যার ঘটনায় লবণচরা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে লবণচরা থানায় পৃথক হত্যা মামলা দায়েরের পর জড়িতদের ধরতে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
র্যাব-৬ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিন আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়ের করে তাদের লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে আলোচিত এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

