রাজনীতি ডেস্ক:
গত ছয় মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল হয়েছেন কি না—কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এমন প্রশ্নকে ‘পল্টনের বক্তৃতা’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে সম্পূরক প্রশ্নোত্তর পর্বে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়।
প্রশ্ন উত্থাপনকালে হাসনাত আবদুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। বর্তমানে জেলাটিতে গান-বাজনা ও সিনেমা প্রদর্শনী প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এরপর সংসদ সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন, গত ছয় মাসে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন কি না, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না এবং এ ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন কি না। বক্তব্যের সময় তিনি বিভিন্ন হত্যা ও আহতের ঘটনার পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা—বুঝতে পারিনি।’
তিনি বলেন, ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সফল হয়েছেন কি না, সেটি একটি প্রশ্ন। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা হল কেন নেই, সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রশ্ন।
হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া হত্যা ও জখমের পরিসংখ্যানের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই পরিসংখ্যান কীসের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তার জানা নেই।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। অনেক ঘটনায় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
রংপুরে সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কোথায় কী ব্যর্থতা আছে, বলতে হবে। আইন রক্ষাকারী বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে বা এই সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারেনি—এগুলো বক্তব্যে চলে। এটা সংসদ। সংসদে তথ্যভিত্তিক কথা বলতে হবে।’
কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যর্থ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হলে সংসদে আলোচনা ও বিতর্ক করা যেতে পারে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সংসদ সদস্যরা ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার সুযোগ নিতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

