রাজনীতি ডেস্ক:
শরীয়তপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তিন সাংবাদিককে মারধর এবং পরে আরেক সাংবাদিককে মুঠোফোনে হুমকির অভিযোগে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন এ দাবি জানান। দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান।
বিবৃতিতে বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পিটিয়ে দমনের হুমকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। অভিযোগ অনুযায়ী, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা এক সাংবাদিককে মুঠোফোনে বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিডামু’।
এনসিপি নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং সংবাদমাধ্যমকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের হুমকি শুধু গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত নয়, বরং দেশের বাক্স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্যও হুমকি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের ক্যাডারতন্ত্র, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি মেনে নেওয়া হবে না। গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে ভয়ভীতি ও সহিংসতার মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অশনিসংকেত।
এনসিপি অবিলম্বে শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের এবং সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লাসহ সংশ্লিষ্টদের তদন্তসাপেক্ষে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
পাশাপাশি সারা দেশে কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশে অবাধে ও নির্ভয়ে সত্য সংবাদ প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে কার্যকর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মুক্ত গণমাধ্যম ও বাক্স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনে দেশের সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে এনসিপি।

