নিজেস্ব প্রতিবেদক যশোর:
যশোরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করার অভিযোগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার যশোর শহরের পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি করেন। এ ঘটনায় যশোর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রাজিবুল ইসলাম রাজিবকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার, কাজী নাবিল আহমেদ, রঞ্জিত রায়, মনিরুল ইসলাম ও ইয়াকুব আলী।
মিছিলের অভিযোগ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে যশোর শহরের কাজীপাড়া-কাঁঠালতলা এলাকায় পালোয়ান বাড়িগামী সড়কে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পুলিশের দাবি, মিছিলটি সরকারবিরোধী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছিল।
এজাহারে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে মিছিলটি আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ ও পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ‘জাতীয় শোক দিবস’ লেখা একটি ব্যানার ফেলে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ব্যানারটি উদ্ধার করে।
যাঁদের আসামি করা হয়েছে
মামলার এজাহারে স্বপন ভট্টাচার্যের ছেলে শুভ ভট্টাচার্যসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সাবেক জনপ্রতিনিধিদের নাম রয়েছে।
এজাহারে থাকা অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন যুবলীগ নেতা অশোক বোস, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফন্টু চাকলাদার, সাবেক পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আতিকুর বাবু ওরফে জার্মান বাবু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী, আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম এবং সাবেক কাউন্সিলর হাজি সুমন ও অ্যাডভোকেট বাবুল।
এ ছাড়া যশোর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদেরও মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চুড়ামনকাঠি, দেয়াড়া, আরবপুর, চাঁচড়া, রামনগর, ফতেপুর, কচুয়া, নরেন্দ্রপুর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা রয়েছেন।
মামলায় যশোর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা এবং সাবেক কাউন্সিলরদেরও আসামি করা হয়েছে।
আরও আটকের চেষ্টা
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুম খান বলেন, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের অভিযোগে ১১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর রাজিবুল ইসলাম রাজিবকে আটক করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

