রাজনীতি ডেস্ক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, গণভোটের বিষয়টি ঘিরে সরকার জনগণের প্রত্যাশা ও জুলাই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে প্রতারণা করছে। তাঁর দাবি, সরকারের বর্তমান অবস্থান গণতান্ত্রিক নয়; বরং তা স্বৈরাচারী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
বুধবার ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিও জানানো হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের প্রতি সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য, আহতদের একটি অংশ এখনও দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন, আবার অনেকে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অথচ তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়। দিনমজুর থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই সেই আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। তাই এই আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে একক মালিকানার আওতায় আনার চেষ্টা করা উচিত নয়।
শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। তাঁর মতে, এসব বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
সরকারপ্রধানের দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের আগে জাতিকে যে আশার বার্তা দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। জনগণের সেই প্রত্যাশা কেন পূরণ হচ্ছে না, সে বিষয়ে সরকারের জবাবদিহি প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই সনদ নিয়েও সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং সংসদেও বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির প্রতিও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন।
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের মতামত ও গণরায়কে সম্মান জানাতে হবে। অন্যথায় দেশে স্বৈরাচারী প্রবণতার বিরুদ্ধে আবারও গণআন্দোলনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাঁর দাবি, সরকার যদি গণতান্ত্রিক আচরণে ফিরে আসে, তাহলে জনগণই তাদের ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে।

