খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনায় একটি চিড়া মিল বন্ধের আবেদনকে ঘিরে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। মিল চালু রাখতে চাওয়া হয়েছিল ৫ লাখ টাকা চাঁদা। আর সেই চাঁদার টাকা না দেওয়ার পরই শুরু হয় মিল বন্ধের নানা তৎপরতা।
ঘটনাটি খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন বান্দাবাজারের ফজলুর রহমান সড়কের ‘বিশ্বাস চিড়া মিল’-কে ঘিরে।
মিল মালিকের করা নালিশি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ১৩ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই আসামিসহ অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন। তখন ব্যবসা চালু রাখতে হলে দাবি করা হয় ৫ লাখ টাকা চাঁদা।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে একজন পিস্তল বের করে মিল মালিকের মাথায় ঠেকিয়ে চাঁদা দাবি করেন।
প্রাণভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা দেন তিনি। তবে বাকি ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য পরবর্তীতেও চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৫০৬(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এখানেই শেষ নয়।
চাঁদা দাবির এই অভিযোগের পাশাপাশি ‘বিশ্বাস চিড়া মিল’ বন্ধের বিষয়টিও সামনে আসে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নথি বলছে, বান্দাবাজারের ফজলুর রহমান সড়কে থাকা মিলটির কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে গত ২২ জুন মিলটির প্রোপ্রাইটর মো. জামির উদ্দিনকে নোটিশ দেওয়া হয়।
কিন্তু নোটিশের পর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত জবাবে বলা হয় মিলটির কারণে এলাকায় পরিবেশদূষণ হচ্ছে না।
বরং মিলটি বন্ধ হয়ে গেলে কর্মহীন হয়ে পড়বেন সেখানে কাজ করা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক।
সংকটে পড়বে তাদের পরিবারও।
এর মধ্যেই মিল বন্ধের অভিযোগকারী পক্ষের কয়েকজনের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ উঠেছে।
কেএমপি কমিশনারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে শেখ বিল্লাল হোসেন ও তার ভাই শেখ জিল্লুর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা করছেন।
বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বাড়ি নির্মাণকারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি এবং অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ কথিত মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার উঠতি বয়সী যুবকদের একটি অংশ মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। তৈরি হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা।
অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরে দেওয়া লিখিত আবেদনে এলাকাবাসীর একটি অংশের সরাসরি দাবি মিল মালিকের কাছে চাঁদা দাবি করে তা না পাওয়ার পরই মিলটি বন্ধের উদ্দেশ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
একই আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘বিশ্বাস অটো চিড়া মিলের’ মালিক মো. জামির উদ্দিন বিশ্বাস এবং লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেনকে নিয়েও মিথ্যা ও বানোয়াট ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে মিল বন্ধের আবেদন কি শুধুই পরিবেশগত কারণে, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো বিরোধ?
একদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের নোটিশ।
অন্যদিকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা। তার সঙ্গে আবার মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পাল্টা অভিযোগ।
সবকিছু মিলিয়ে ‘বিশ্বাস চিড়া মিল’ ঘিরে তৈরি হয়েছে অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের জটিল পরিস্থিতি।
অভিযুক্ত শেখ বিল্লাল হোসেন ও শেখ জিল্লুর হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

