খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনার ভৈরব নদের জেলখানাঘাট এলাকায় ফেরি ও যাত্রীবাহী ট্রলারের সংঘর্ষের পর নিখোঁজ হওয়া রাকিব খান (২৭)–এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের সাত দিন পর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বটিয়াঘাটার কাজীবাছা নদী থেকে তাঁর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে রূপসা নৌ পুলিশ।
নিহত রাকিব খান রূপসা উপজেলার আইচগাতী এলাকার সেনের বাজারের মৃত বাকের হোসেন ও রোকসানা বেগমের একমাত্র ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হিসেবে তিনি সংসারের দায়িত্ব পালন করতেন। পাশাপাশি খুলনা শহরের বায়তীপাড়া আব্বাস উদ্দিন একাডেমিতে নিয়মিত নাচের প্রশিক্ষণ নিতেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১০টার দিকে ভৈরব নদের জেলখানাঘাট এলাকায় একটি ফেরি ও যাত্রীবাহী ট্রলারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে ঘাটের দিকে হেঁটে যেতে সিসিটিভি ফুটেজে রাকিবকে দেখা যায়। এরপর তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি নিখোঁজ হন।
এ ঘটনায় ২ সেপ্টেম্বর খুলনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রাকিবের মামা কামরুল হাসান।
নিখোঁজ হওয়ার পর টানা সাত দিন রাকিবের মা রোকসানা বেগম ও স্বজনেরা ট্রলার ভাড়া করে ভৈরব ও কাজীবাছা নদীর বিভিন্ন এলাকায় এবং নদীর দুই পাড়ে অনুসন্ধান চালান। তবে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে নৌযান চলাচলে অব্যবস্থাপনা ও চালকের গাফিলতিকে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে অভিযোগ করা হয়।
মঙ্গলবার রাতে বটিয়াঘাটার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের কাতিয়ানাংলা বাজারসংলগ্ন কাজীবাছা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা নৌ পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহটি দীর্ঘদিন পানিতে থাকায় গলিত ও অবয়বহীন হয়ে পড়েছিল। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বজনেরা পরনের পোশাক ও অন্যান্য চিহ্ন দেখে মরদেহটি রাকিবের বলে শনাক্ত করেন।
রূপসা নৌ পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও রাকিবের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

