খুলনা ব্যুরো:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, ‘জুলাই‘ কেবল ক্যালেন্ডারের একটি মাস নয়; এটি দেশের ইতিহাসে অন্যায়, দুঃশাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। জুলাইয়ের চেতনাকে মুছে ফেলার যে কোনো অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে। বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে খুলনা নগরীর বাবরী চত্বর (শিববাড়ি মোড়) এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদ পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত গণসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য, খুলনা।
মাহফুজুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার সূচনা করেছিল। সেই আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের রক্ত একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি দাবি করেন, গণভোটের রায় কার্যকর করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নই বর্তমান সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গণভোটের রায় অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করে বর্তমান সরকার জুলাইয়ের চেতনা ও জনগণের প্রত্যাশাকে অবমূল্যায়ন করেছে। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গনে সহিংস কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজধানীর বকশীবাজারে সংঘটিত হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী মতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে সহিংসতার পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং এ ধরনের প্রবণতাকে জাতি ও শিক্ষাঙ্গনের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় একাডেমিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাহ আলমের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাঈদুর রহমান, লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সাইফুদ্দোহা, এনসিপির মহানগর সংগঠক আহম্মদ হামীম রাহাত, বিডিপির মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. হানিফ উদ্দীন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, জাগপার খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগর সভাপতি রাকিব হাসান, জাতীয় যুবশক্তির খুলনা জেলা আহ্বায়ক সাজিদুল ইসলাম বাপ্পীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সুফল ভোগকারী রাজনৈতিক শক্তির কোনো অংশের বিরুদ্ধে শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার অভিযোগ দেশবাসীকে হতাশ করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি দেশের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে সন্ত্রাস, সহিংসতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান বক্তারা।

