খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও গবেষণার সক্ষমতা বাড়াতে তিনটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেটের এসব প্রকল্পে আবাসিক হল ও শ্রেণিকক্ষের সংকট নিরসন, গবেষণাগার সম্প্রসারণ এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার আগে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে এসব প্রস্তাবনা নিয়ে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম।
সভায় প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুল ইসলাম। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিসিপ্লিন প্রধান, গ্রন্থাগারিক, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট এবং বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকরা অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অনেক কাজ দৃশ্যমান হবে। নতুন ডিপিপিতে আবাসিক হল নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, শ্রেণিকক্ষের সংকট নিরসন এবং গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি এসব প্রকল্পের অনুমোদন, অর্থছাড় ও বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
উপাচার্য আরও বলেন, জীববিজ্ঞান স্কুলের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের জন্য ফিল্ড ল্যাবরেটরি নির্মাণ, দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ, ইনোভেশন হাবের যথাযথ ব্যবহার, বধ্যভূমি স্মৃতি জাদুঘর চালু এবং একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান সংশোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)ভিত্তিক কারিকুলাম সংশোধনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে আবাসিক সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট অনেকাংশে নিরসন করা সম্ভব হবে।
সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার, ডিসিপ্লিন প্রধান, গ্রন্থাগারিক, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট ও বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকরা প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন। একই সঙ্গে শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে এমন বৃহৎ পরিসরের প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রণয়নের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান।

