স্বাস্থ্য ডেস্ক:
একসময় হাম নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া বাংলাদেশ এখন ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯ জনে। একই সময়ে নতুন করে ৮৫৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হাম বিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। এতে অনেক পরিবারকে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ধার-দেনা করতে হচ্ছে কিংবা শেষ সম্বলটুকু ব্যয় করতে হচ্ছে। আবার সন্তান হারিয়ে শোকের পাশাপাশি ঋণের বোঝাও বহন করতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
হামের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে, কারণ ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর দেশে হামে কোনো মৃত্যুর রেকর্ড ছিল না। অথচ চলতি বছর মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে।
এদিকে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নতুন করে টিকাদান কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে আবারও হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
মন্ত্রী জানান, টিকাদান কর্মসূচির জন্য অধিকাংশ টিকা ইতোমধ্যে ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

