ঢাবি প্রতিনিধি:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সোমবার দুপুরে আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে এক শিক্ষার্থী ডাকসু সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবিটি ছিঁড়ে ফেলেন।
শিক্ষক মূল্যায়ন নিয়েও আপত্তি
এদিকে ডাকসুর উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ওয়েবসাইট চালুর বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ডাকসুর পক্ষ থেকে একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। শিক্ষক মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। তাই কোনো ব্যক্তি, সংগঠন কিংবা ছাত্র সংসদ নিজেদের উদ্যোগে পৃথক কোনো শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করতে পারে না।
ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষকদের টিচিং ইভালুয়েশনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত ওই নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফলে অনুমোদিত নীতিমালার বাইরে গিয়ে পৃথক কোনো শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রশাসনের ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার শামিল। ডাকসুর এমন উদ্যোগকে অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
‘দ্বৈত প্রশাসনিক কাঠামোর সুযোগ নেই’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও এর সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব এড়িয়ে কোনো সমান্তরাল কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

