ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সাজিয়াড়া মোড়ে অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতবাড়ির কয়েকটি ঘর ও রান্নাঘর পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজিয়াড়া মোড় এলাকায় রফি নামে এক ব্যক্তির চায়ের দোকান ও বসতবাড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন বসতঘর ও রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর কাজে এগিয়ে আসেন। পরে ডুমুরিয়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে বসতবাড়ির কয়েকটি ঘর ও রান্নাঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আগুনে ঘরের বিভিন্ন মালামালও পুড়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাজিয়াড়া মোড়ের দিকে যাওয়ার রাস্তা অত্যন্ত সরু। এ কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় বেশি লাগে।
ডুমুরিয়া ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘‘আমরা রাত-দিন মানুষের কল্যাণে কাজ করছি। কিন্তু কিছু এলাকায় রাস্তা সরু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে সমস্যা হয়। আজও আমাদের দুটি গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আল্লাহর রহমতে এবং সবার সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।’’
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা সাজিয়াড়া এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ও সরু রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কার ও প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারলে ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ডে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘‘ঝুঁকিপূর্ণ ও সরু রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কার ও প্রশস্ত করার বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করব। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি।’’
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

