রাজনীতি ডেস্ক:
অল্টারনেটিভসের সংগঠক তাজনূভা জাবীন বাংলাদেশ জনঅধিকার পার্টির (বিজেপি) সভাপতি আন্দালিভ রহমান পার্থ এমপির সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের অবদানকে খাটো করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আন্দালিভ রহমান পার্থর একটি ভিডিও শেয়ার করে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে তাজনূভা জাবীন এ মন্তব্য করেন।
স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘১৭ বছরের রাজনৈতিক ব্যর্থতার কোনো দায় কি আপনাদের নেই? সেই ব্যর্থতার কারণেই তো জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের জন্ম হয়েছে।’ তাঁর ভাষ্য, যারা আজ জুলাই প্রজন্মের সমালোচনা করছেন, তাদের অনেকেই পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের সুবিধা পেয়েছেন। বিপরীতে, জুলাই আন্দোলনের তরুণরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংগ্রাম করে নিজেদের নেতৃত্বের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন।
তাজনূভা জাবীন আরও লেখেন, এই তরুণরাই দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কারও কাছে তারা জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য নাও হতে পারেন, তবে বাস্তবে তারা একটি গণঅভ্যুত্থান সফলভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছেন যে সক্ষমতা অনেক অভিজ্ঞ রাজনীতিকও দেখাতে পারেননি।
তিনি বলেন, অতীতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না। তবে সেই ইতিহাসকে সামনে রেখে বর্তমান প্রজন্মের প্রতি অহংকারপূর্ণ বা অবমূল্যায়নমূলক বক্তব্যও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। গুম, মানবাধিকার এবং ক্ষমতার জবাবদিহিতার মতো ইস্যুতে নিজেদের অবস্থানও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ছাত্রনেতাদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে উল্লেখ করে জাবীন বলেন, ‘তারা এরপর কী করতে পেরেছে বা পারেনি, সেটি আলাদা আলোচনা। কিন্তু ৫ আগস্টের আগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা যে আন্দোলনকে সফল করেছে এবং শেখ হাসিনার পতন নিশ্চিত করেছে, সেই অবদান অস্বীকার করা উচিত নয়।’
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘১৭ বছরের রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং অতীতের নানা ভুল থাকা সত্ত্বেও আপনারা আবারও সংসদ সদস্য হয়েছেন। অন্যদিকে, জুলাই প্রজন্মের পথচলা মাত্র শুরু হয়েছে। এত অল্প বয়সে তারা একটি গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছে। পারিবারিক রাজনৈতিক সুবিধা পেলে তাদের জন্য পথ আরও সহজ হতে পারত।’
তাজনূভা জাবীনের দাবি, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে অনেক অভিজ্ঞ রাজনীতিক পরিস্থিতি সামলে নিতে পারলেও আন্দোলনের সম্মুখসারির তরুণদের জীবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ত।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধা’ বলে বিদ্রূপ করা হলে তার জবাবে ‘সুবিধাবাদী যোদ্ধা’ শব্দও ফিরে আসতে পারে। ‘রাজাকার’ তকমা দিয়ে যেমন আন্দোলন থামানো যায়নি, তেমনি ‘জুলাই বিক্রেতা’ বলেও এই প্রজন্মকে থামানো সম্ভব হবে না।
এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন।

