বাণিজ্য ডেস্ক:
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। প্রতিষ্ঠানটিকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন বীমা পলিসি ইস্যু এবং প্রথম বর্ষের প্রিমিয়াম সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
আইডিআরএর এ সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে প্রতিষ্ঠানটির বিপুল পরিমাণ বকেয়া বীমা দাবি পরিশোধ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে নতুন করে গ্রাহকের অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দায় আরও বাড়ার পথও বন্ধ করা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, ফারইস্ট ইসলামী লাইফকে সিকিউরিটিজ বন্ডে বিনিয়োগ করা ৬ কোটি টাকা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে নগদায়ন করতে হবে। ওই অর্থ বকেয়া বীমা দাবি পরিশোধে ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছে আইডিআরএ।
শুধু তা-ই নয়, চলতি মাসের মধ্যেই বকেয়া দাবি নিষ্পত্তির জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে আইডিআরএর কাছে জমা দিতে হবে কোম্পানিকে। গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধে কোন সম্পদ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইডিআরএর নির্দেশনায় কোম্পানির সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সম্পদ নগদায়নের কথা বলা হয়েছে। পুরোনো বীমা দাবিগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট’ বা FIFO পদ্ধতিতে পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বকেয়া দাবির পরিমাণ ৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা
ফারইস্ট ইসলামী লাইফের আর্থিক পরিস্থিতির চিত্র আরও স্পষ্ট হয় আইডিআরএর সাম্প্রতিক তথ্য থেকে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির গ্রাহকদের বকেয়া বীমা দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩১০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
অন্যদিকে একই সময়ে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ড ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে ৯৪৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। বিপুল পরিমাণ বকেয়া দাবি এবং ঋণাত্মক লাইফ ফান্ড দুই সূচকই প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকটের গভীরতা প্রকাশ করছে।
এ অবস্থায় নতুন পলিসি বিক্রি ও প্রথম বর্ষের প্রিমিয়াম সংগ্রহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে শুধু নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ হিসেবে নয়, বরং বিদ্যমান গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধে প্রতিষ্ঠানকে মনোযোগী করার উদ্যোগ হিসেবেও দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
নির্দেশনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ শুরু
আইডিআরএর নির্দেশনা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আব্দুর রহিম ভূঁইয়া। তিনি জানান, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া দাবির চাপ থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন করে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ সীমিত করার সিদ্ধান্ত গ্রাহকস্বার্থ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সম্পদ নগদায়ন ও পুরোনো দাবি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিশোধের নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পাওনা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতি হতে পারে।
তাদের মতে, শুধু ফারইস্ট ইসলামী লাইফ নয়, একই ধরনের আর্থিক চাপে থাকা অন্যান্য বীমা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রক নজরদারি জোরদার করা জরুরি। গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা নিয়মিত পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

