কয়রা, খুলনা প্রতিনিধি:
সুন্দরবনঘেঁষা উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় লবণাক্ততার কারণে সুপেয় পানির সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সুপেয় পানি সংরক্ষণের সুবিধা দিতে সংকটে থাকা পরিবারের মধ্যে ৩ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে কয়রা উপজেলা পরিষদ মাঠে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উদ্যোগে এসব পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়। সরকারের উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ট্যাংক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কয়রা সমুদ্র উপকূলবর্তী হওয়ায় এলাকায় ক্রমেই লবণাক্ততা বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে পুকুর, জলাশয় ও নলকূপের পানিতে। ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি লবণাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে মানুষ চর্মরোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় মানুষের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারই অংশ হিসেবে হতদরিদ্র ও সুপেয় পানির সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে পানি সংরক্ষণের জন্য ৩ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাংক দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে কয়রা উপজেলার প্রয়োজনীয় প্রতিটি পরিবারের কাছে বিনামূল্যে এসব ট্যাংক পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলার একটি কার্যকর উপায়। সেই লক্ষ্যেই প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবারগুলোকে পানি সংরক্ষণের ট্যাংক সরবরাহ করা হচ্ছে।
ট্যাংক বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসতিয়াক আহমেদ, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, সেক্রেটারি শেখ সাইফুল্লাহ, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মোল্লা শাহাবুদ্দিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টরা।

