বাণিজ্য ডেস্ক:
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার।
নতুন নীতিমালার আওতায় এখন থেকে সরকার আর সরাসরি এমডি বা সিইও নিয়োগ দেবে না; বরং যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি (এনওসি) সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ চূড়ান্ত নিয়োগপত্র ইস্যু করবে।
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করেছে। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নিয়োগে অধিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, পেশাদার নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক—সোনালী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) পিএলসিতে একই পদ্ধতিতে এমডি বা সিইও নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
এ ব্যবস্থায় সরকার প্রার্থী মনোনয়নের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করবে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক অনুমোদন বা অনাপত্তি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা আরও সুস্পষ্ট ও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ব্যাংক খাতে জবাবদিহিতা ও করপোরেট গভর্ন্যান্স শক্তিশালী করার অংশ হিসেবেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, নতুন নীতিমালার ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও পেশাভিত্তিক হবে, যা সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতের সুশাসন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

