রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
স্পেশাল

কে এই সুমা বড়াল? ৩২ নম্বরে আটক হওয়ার পর যে পরিচয় ঘিরে নানা প্রশ্ন

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

১৫ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক দুই নারীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। তাদের একজন সুমা বড়াল। ঘটনার পর থেকেই তার রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক পটভূমি ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা দাবির বাইরে সুমা বড়ালের পরিচয় ও পারিবারিক পটভূমি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে পাওয়া গেছে ভিন্ন কিছু তথ্য।

বাগেরহাটের চিতলমারীর মেয়ে সুমা

সুমা বড়ালের বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কুরমণি গ্রামে। তার বাবা প্রয়াত প্রতুল কুমার বড়াল ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। মা সাধনা বড়াল। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সুমা সবার ছোট। তার ডাকনাম ডলি।

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, সুমা চিতলমারী হাসিনা বেগম বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। পরে বাগেরহাট খানজাহান আলী কলেজ থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। পারিবারিকভাবে তিনি এখনো অবিবাহিত এবং ভাই লিটন বড়ালের সঙ্গে একই সংসারে থাকেন।

১৫ আগস্টের ঘটনায় আলোচনায়

১৫ আগস্টের ঘটনায় সুমা বড়ালকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের ভেঙে ফেলা ভাস্কর্য জড়িয়ে ধরে কান্না করতে দেখা যায়—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, ভিডিওটি সুমার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রকাশ করা হয়েছিল।

এরপর ওই রাতেই সুমা বড়াল ও তার সঙ্গে থাকা জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে জান্নাত ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে সেখানে উপস্থিত জনতার বাধার মুখে পড়েন। পরে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি মডেল থানায় মামলা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুমা বড়ালকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে দাবি করে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে তাকে ঘিরে নানা ধরনের রাজনৈতিক পরিচয়ের কথাও সামনে আসে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে, সুমা বড়ালের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার ছবি রয়েছে। এসব ছবি তিনি নিজেও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। ফলে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে কারও সঙ্গে ছবি থাকা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়ে পোস্ট দেওয়াকে এককভাবে কোনো দলের সক্রিয় কর্মী হওয়ার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সুমা নিজে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে তার সরাসরি বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবারের দাবি কী?

সুমার ভাই লিটন বড়াল বলেন, তাদের বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তবে তাদের পরিবার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

তার ভাষ্য, সুমা বর্তমানে ঢাকায় আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করা হয়েছে।

তাহলে আসলে কে সুমা বড়াল?

৩২ নম্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুমা বড়াল এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচিত একটি নাম। একদিকে তাকে ঘিরে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবি, অন্যদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকার বক্তব্য—দুই ধরনের তথ্যই সামনে এসেছে।

এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা কারও সঙ্গে তোলা ছবি দিয়ে তার রাজনৈতিক পরিচয় চূড়ান্ত করার সুযোগ নেই। বরং তার নিজের বক্তব্য, সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার আইনগত নথিই পারে বিষয়টি স্পষ্ট করতে।

১৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুমা বড়ালকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, তার উত্তর এখন অনেকটাই নির্ভর করছে তদন্ত, মামলার নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ওপর।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581