আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক যুব উৎসব-২০২৬-এ অংশ নেওয়া তরুণ ও অতিথিদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গে আয়োজিত উৎসবের উদ্বোধনী ভিডিওবার্তায় তিনি প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে বিশ্বের ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা নিয়ে তরুণ নেতাদের ভাবতে ও আলোচনায় অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দেওয়া শুভেচ্ছাবার্তায় পুতিন বলেন, ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থল উরাল অঞ্চলের ইয়েকাতেরিনবুর্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ নেতাদের সমবেত হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই অঞ্চল থেকে উদ্ভাবন ও নানা গুরুত্বপূর্ণ ধারণার জন্ম হয়েছে, যা রাশিয়ার উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাবে মানুষের জীবন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে মানুষ কেমন বিশ্বে বসবাস করতে চায়—এ নিয়ে বিভিন্ন দেশের তরুণ নেতাদের আলোচনা করার জন্য ইয়েকাতেরিনবুর্গ একটি উপযুক্ত স্থান।
পুতিন বলেন, রুশ ভাষার ‘মির’ শব্দের অর্থ বন্ধুত্ব, শান্তি ও সম্প্রীতি। একই সঙ্গে শব্দটির অর্থ বিশ্ব বা পৃথিবী। এই ধারণা রাশিয়ার বহুজাতিক জনগোষ্ঠীর চরিত্র, সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বন্ধুত্ব দৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়া প্রয়োজন। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ন্যায়বিচার ও সম্মান বজায় রাখা জরুরি। মানুষের ভাগ্য যেন তার জাতীয়তা, অর্থসম্পদ, সামাজিক মর্যাদা কিংবা পারিবারিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর না করে—এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
প্রতিটি দেশের নিজস্ব পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন পুতিন। পাশাপাশি ওষুধ, খাদ্য, পানি, জ্বালানি, শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পুতিন বলেন, এসবই তাদের আকাঙ্ক্ষা, লক্ষ্য ও স্বপ্ন। তরুণরাও যদি একই আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে, তাহলে একসঙ্গে বিশ্বকে পরিবর্তন করা সম্ভব।
রাশিয়ার বিভিন্ন প্রকল্পে অংশ নিতে আগ্রহী তরুণদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণরা নিজ নিজ দেশেও একটি নতুন, উন্মুক্ত ও ন্যায়সংগত বিশ্ব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তরুণ প্রজন্মের ওপর আস্থা প্রকাশ করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, তরুণরা সফল হবে এ বিষয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই। সময় এখন তরুণদের।
ভিডিওবার্তার শেষে উৎসবে অংশ নেওয়া তরুণ ও অতিথিদের সুস্বাস্থ্য, সৌভাগ্য ও সাফল্য কামনা করেন ভ্লাদিমির পুতিন।

