খুলনা ব্যুরো:
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণ, পণ্যের মান ও মেয়াদ যাচাই এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় খুলনা বিভাগজুড়ে অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভাগের বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের ৮টি পৃথক টিম দিনব্যাপী এসব অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, আলু, দেশি পেঁয়াজ, সবজি, মুরগি ও ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার, মূল্য তালিকা ও পণ্যের মোড়ক পরীক্ষা করা হয়। অনিয়ম ধরা পড়ায় বিভিন্ন এলাকার ১১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনার সময় ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি, দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
খুলনা মহানগরে দুই অভিযানে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা
খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার গল্লামারী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে বাংলাদেশ বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে হরিণটানা থানার কৈয়া বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করা এবং নির্ধারিত পণ্য যথাযথভাবে সরবরাহ না করার অপরাধে ন্যাচারাল এগ্রো প্রসেস সেন্টারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
যশোরে মূল্য তালিকা না থাকায় দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে সদর উপজেলার রাজারহাট বাজারে অভিযান চালানো হয়। মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় মহাসিন স্টোরকে ২ হাজার টাকা এবং একই অপরাধে চাঊল বিপনিকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
খুলনায় মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধে জরিমানা
খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে মহানগরীর ফুলতলা উপজেলার ইস্টার্ন গেট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে নিউ পবিত্র স্টোরকে ১ হাজার টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার অভিযোগে মেসার্স জননী ফার্মেসিকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কুষ্টিয়ায় খাদ্য উৎপাদনে অনিয়ম, জরিমানা ১৫ হাজার
কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলীর নেতৃত্বে সদর উপজেলার এসএস রোড এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করা এবং অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে পিওর লাইভ ফুড অ্যান্ড পেস্ট্রিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বাগেরহাটে মোড়ক ব্যবহারে অনিয়ম
বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানার নেতৃত্বে সদর উপজেলার রেল রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করার অপরাধে মর্ডান হারবালকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সাতক্ষীরায় পণ্যের মোড়ক ও সরবরাহে অনিয়ম
সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান তানভীরের নেতৃত্বে সদর উপজেলার বাঁশদহা বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করা এবং যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অভিযোগে মেসার্স হোসেন ভান্ডারকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ঝিনাইদহে দুই হোটেলকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা
ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে কালীগঞ্জ উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে রোজ হোটেল অ্যান্ড সুইটসকে ২০ হাজার টাকা এবং একই অপরাধে রায় হোটেল অ্যান্ড সুইটসকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা স্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে
অধিদপ্তরের অভিযান চলাকালে শুধু জরিমানা নয়, ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান মালিকদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে সচেতন করা হয়। বিশেষ করে মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ, পণ্যের মেয়াদ ও মোড়ক ঠিক রাখা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় বাজার তদারকি ও অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

