বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
খুলনা বিভাগ

খুলনার পাইকগাছায় দেশের প্রথম অনলাইন ডিসপিউট রেজল্যুশন ওডিআর সেন্টার চালু 

খুলনা ব্যুরো:

জমি, পারিবারিক বিরোধ কিংবা ছোটখাটো আপসযোগ্য কোনো দ্বন্দ্ব নিয়ে আর প্রতিবার জেলা শহরে ছুটতে হবে না। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ নিজ এলাকা থেকেই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এ লক্ষ্যেই খুলনার পাইকগাছায় চালু হয়েছে দেশের প্রথম অনলাইন ডিসপিউট রেজল্যুশন (ওডিআর) সেন্টার।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) পাইকগাছা চৌকি আদালত প্রাঙ্গণে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সেন্টারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ একদিকে যেমন প্রান্তিক মানুষের আইনি সেবার পথ সহজ করবে, অন্যদিকে আপসযোগ্য বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে আদালতের মামলাজট কমাতেও ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি খুলনার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলিম আল রাজী বলেন, দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। বিপুল এই মামলার বিপরীতে বিচারকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় প্রচলিত আদালত ব্যবস্থার মাধ্যমে সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা কঠিন। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, কোনো বিরোধ আদালতে গড়ালে তা নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে আপিল, হাইকোর্ট, আপিল বিভাগ কিংবা রিভিশনের মতো দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারে। এতে বছরের পর বছর সময় লেগে যাওয়ার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের অর্থ ও শ্রমও ব্যয় হয়। অথচ উপযুক্ত অনেক বিরোধ মামলা করার আগে বা মামলা চলাকালীন মধ্যস্থতা ও সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব।

সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আরও বলেন, আদালতের রায়ে সাধারণত একজন পক্ষ জয়ী এবং অন্য পক্ষ পরাজিত হয়। কিন্তু মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে ছাড় দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি পারিবারিক, সামাজিক বা ব্যবসায়িক সম্পর্কও ধরে রাখার সুযোগ থাকে।

পাইকগাছায় ওডিআর সেন্টার চালুর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, খুলনা শহর থেকে সড়কপথে পাইকগাছায় আসতেই প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। কয়রাসহ জেলার আরও দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য জেলা শহরে এসে আইনি সেবা নেওয়া আরও সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। তাই তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের কাছাকাছি আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়া সময়োপযোগী উদ্যোগ।

তিনি ফ্রেন্ডশিপের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে খুলনার কয়রাসহ অন্যান্য প্রত্যন্ত এলাকাতেও ওডিআর কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তার মতে, এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ নিজ এলাকার কাছাকাছি থেকেই আইনি সহায়তা ও বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন বলেন, প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে ন্যায়বিচারের সুযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও কম খরচে পৌঁছে দিতে ওডিআর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি প্রচলিত বিচারব্যবস্থার বিকল্প নয়; বরং বিদ্যমান আইনগত সহায়তা ও মধ্যস্থতা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার একটি সহায়ক মাধ্যম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র ডিরেক্টর ও ইনক্লুসিভ সিটিজেনশিপের প্রধান আয়েশা তাসিন খান। তিনি বলেন, ভৌগোলিক দূরত্ব, যাতায়াতের খরচ এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রান্তিক এলাকার অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা থেকে দূরে থাকেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব বাধা কমিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

বিশেষ অতিথি খুলনা জেলা আইনগত সহায়তা কর্মকর্তা ম. রোমানা আফরোজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ফ্রেন্ডশিপের ওডিআর সেন্টারের কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির ইনক্লুসিভ সিটিজেনশিপের সহকারী মহাব্যবস্থাপক-আইন অ্যাডভোকেট আশিকুজ্জামান।

এ সময় পাইকগাছা চৌকি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্লাহ, সিভিল জজ হযরত আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী, পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জি এম আব্দুস সাত্তারসহ আদালত ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফ্রেন্ডশিপের ইনক্লুসিভ সিটিজেনশিপের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সেন্টারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ধরনের উপযুক্ত বিরোধে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভার্চুয়াল মধ্যস্থতায় অংশ নিতে পারবেন। ফলে জেলা শহরে বারবার যাতায়াতের প্রয়োজন কমার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পাইকগাছার পর এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর বিরোধ নিষ্পত্তি সেবা খুলনার অন্যান্য দুর্গম এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়লে প্রান্তিক মানুষের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493