বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
খুলনা বিভাগ

সুন্দরবনে চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণ

খুলনা ব্যুরো:

সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত এবং নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যে চারটি সক্রিয় জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) সুন্দরবনে সক্রিয় বড় জাহাঙ্গীর, আনারুল, আফজাল ওরফে দুলাভাই এবং আফতাব বাহিনীর এসব সদস্য র‍্যাব-৬-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) র‍্যাব-৬ সদর দপ্তর, খুলনা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব-৬ জানায়, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন এবং আফতাব বাহিনীর ৮ জন রয়েছেন। চার বাহিনী মিলিয়ে মোট ৫২ জন আত্মসমর্পণ করেছেন।

র‍্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ওপর জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ হাজারো মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বনজীবী ও স্থানীয় মানুষের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছিল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে অতীতে সুন্দরবনের বিভিন্ন জলদস্যু ও বনদস্যু বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন দস্যু চক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজনের পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনাও সামনে আসে।

এ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করে র‍্যাব। র‍্যাব-৬সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতার পাশাপাশি দস্যু বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চারটি বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

র‍্যাবের ধারণা, একযোগে চারটি জলদস্যু বাহিনীর এতসংখ্যক সদস্যের আত্মসমর্পণের ফলে সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে দস্যুদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমার পাশাপাশি জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ বননির্ভর মানুষের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ তৈরি হবে।

র‍্যাব-৬ জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যথাসময়ে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

এদিকে বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে প্রযোজ্য বিধিবিধান ও অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবন আবার পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।

সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার ঠিক আগের দিন চারটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছে র‍্যাব। সংস্থাটির মতে, এ উদ্যোগের ফলে বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহ, পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ ছাড়া সুন্দরবনকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকলে অবৈধভাবে কাঠ ও অন্যান্য বনজ সম্পদ আহরণ, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারসহ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেও এটি সহায়ক হবে বলে আশা করছে র‍্যাব।

সুন্দরবনের নিরাপত্তা, বনজীবীদের জীবন-জীবিকার সুরক্ষা এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে র‍্যাবের অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493