বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
খুলনা বিভাগ

কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন করা যাবে না: এটিএম আজহার

খুলনা প্রতিনিধি

পারিবারিক সম্পত্তি আইন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন করা উচিত নয়। এ ধরনের আইন প্রণয়নের আগে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও দেশের আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় খুলনা নগরীর আল ফারুক সোসাইটিতে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত জেলা দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সময় জনগণের ভোট পাওয়ার জন্য কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করা হবে না এবং মদিনার ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল। এখন কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন করা হলে সেই প্রতিশ্রুতি কীভাবে রক্ষা হলো—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে এ ধরনের আইনের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।

গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে সরকারকে জনগণের আন্দোলনের মুখে পড়তে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় আপাতত উপেক্ষা করে অনেক কিছু করা গেলেও জনগণ তা মেনে নেবে না। সরকার রায় বাস্তবায়ন না করলে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

জামায়াতের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক ও নৈতিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এটিএম আজহার বলেন, শুধু দলীয় পরিচয় থাকলেই হবে না, একজন কর্মীকে চরিত্রবান হতে হবে। জামায়াতে রুকন হওয়ার আগে একজন মুসলমানের মৌলিক ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের মানসিকতা থাকা প্রয়োজন। ফরজ-ওয়াজিব পালন, হালাল-হারাম বেছে চলা, কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং মানুষের হক নষ্ট না করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, শুধু সদস্যসংখ্যা বাড়ালেই সংগঠন শক্তিশালী হয় না। কর্মীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় না হলে সংগঠন বাইরে থেকে বড় হলেও ভেতরে দুর্বল হয়ে পড়বে। দায়িত্বশীলদের সংগঠন শক্তিশালী করা, সম্প্রসারণ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং তাদের মানোন্নয়ন—এই চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দায়িত্বশীল নেতাদের জনশক্তির ‘পাহারাদার’ হওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রতি রহমদিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এটিএম আজহার বলেন, সামনে নির্বাচন। শুধু মানুষের সমর্থন থাকলেই হবে না, সেই সমর্থনকে ভোটে রূপান্তরের সাংগঠনিক সক্ষমতাও থাকতে হবে। এজন্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সংগঠন বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জামায়াতের প্রতি সমর্থন নেই কিংবা ধর্মীয় অনুশীলনে দুর্বল—এমন মানুষদেরও দূরে না ঠেলে কাছে টানার আহ্বান জানান তিনি। সংগঠনকে বটগাছের মতো হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ভালো-মন্দ নির্বিশেষে মানুষের আশ্রয়ের জায়গা হতে হবে সংগঠনকে। তবে কাউকে কাছে টানার অর্থ তার খারাপ কাজকে অনুমোদন দেওয়া নয়।

তিনি আরও বলেন, ডাক্তার রোগীকে ঘৃণা করেন না, রোগকে ঘৃণা করেন। একইভাবে মানুষের ভুল ও দুর্বলতা দূর করার চেষ্টা করতে হবে। যোগ্য ও সম্ভাবনাময় মানুষকে চিহ্নিত করে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সাংগঠনিক কাজে যুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, চেয়ারম্যান-মেম্বার হওয়ার জন্য নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা থেকেই সাংগঠনিক কাজে যুক্ত হতে হবে। জান্নাতের আকাঙ্ক্ষাই কর্মীদের কাজের মূল প্রেরণা হওয়া উচিত। সংগঠনের কাজে সক্রিয় থাকার জন্য বারবার কাউকে মনে করিয়ে দিতে হলে বুঝতে হবে, কাজটির গুরুত্ব তাঁর কাছে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ইসলামী আন্দোলনে অর্থ ও সময় ব্যয় করার আহ্বান জানান এটিএম আজহারুল ইসলাম। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালের মুক্তিকে সামনে রেখে কর্মীদের নিষ্ঠা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

‘জুলাই সনদের রায় বাস্তবায়নে আন্দোলন চলবে’

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী সংসদ ও সংসদের বাইরে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, জুলাই সনদের মৌলিক সংস্কারগুলো বাদ দিয়ে খণ্ড খণ্ডভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ববাদী কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হবে না। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্ন থেকে সরে গেছে দাবি করে তিনি বলেন, গণভোটের রায় অস্বীকার করা হলে জনগণের সঙ্গে দেওয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ হবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, জুলাই সনদের ৮৪টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংবিধানিক পদে নিরপেক্ষ নিয়োগ এবং বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কর্তৃত্ববাদ, ভিন্নমত দমন ও অনিয়ম বন্ধের মতো বিষয় ছিল।

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে কিছু নামমাত্র সংস্কার করা হলে সংবিধানের মৌলিক চরিত্রে পরিবর্তন আসবে না। জামায়াতে ইসলামী সংবিধান সংশোধনের চেয়ে রাষ্ট্র কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার চায়। এ লক্ষ্যে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামোর প্রশংসা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মতপার্থক্য ও ভিন্নমত থাকলেও শূরা ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগঠন পরিচালিত হওয়ায় দীর্ঘদিনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জামায়াত ভেঙে পড়েনি। আগামী পাঁচ বছরে সংগঠনের দুর্বলতা ও ত্রুটি চিহ্নিত করে আরও শক্তিশালী হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়াকে ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে আগামী পাঁচ বছরকে প্রস্তুতির সময় হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। তাঁর দাবি, নির্বাচনে সরকার গঠন করতে না পারলেও জামায়াতের প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি হয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নতুন প্রজন্মের অনেকে ‘নতুন দলকে একবার সুযোগ দিয়ে দেখা’র মানসিকতা থেকে জামায়াতের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সৎ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সুবিচারের প্রতি মানুষের আস্থার প্রকাশ ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চায়।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন। সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি এবং সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি।

এ ছাড়া সম্মেলনে খুলনা জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা-থানা জামায়াতের নেতারা, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় দায়িত্বশীলরা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493