খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এবার একযোগে মাঠে নামছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকাগুলোকে তিনটি জোনে ভাগ করে বৃহস্পতিবার থেকে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ওষুধ ছিটানো, ফগিং এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আয়োজিত জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া ওয়ার্ডগুলোকে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। জোন ‘এ’-এর আওতায় থাকবে ১, ২, ৩, ৫, ১০, ১২, ১৫ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড। জোন ‘বি’-তে রয়েছে ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড। আর জোন ‘সি’-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ২১, ২২, ২৩, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড।
ক্রাশ প্রোগ্রামের কার্যক্রম তদারকিতে তিনটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। জোন ‘এ’-এর দায়িত্বে থাকবেন কেসিসির সচিব, জোন ‘বি’-এর দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী এবং জোন ‘সি’-এর দায়িত্বে থাকবেন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে খুলনা সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজের সামনে এবং সকাল সাড়ে ৯টায় ২৮ নম্বর ওয়ার্ড অফিসের সামনে উপস্থিত থেকে ক্রাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধন করবেন।
মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ নজর
ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে মশকনিধন ওষুধ ছিটানো ও ফগিং করা হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেসব এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। ওয়ার্ডভিত্তিক মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসের কাজে নগরবাসীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরজুড়ে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও ফাদারদের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, কোনো বাড়ি বা স্থাপনার সীমানার মধ্যে মশার প্রজননস্থল কিংবা লার্ভা পাওয়া গেলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
নগরবাসীকেও সতর্ক থাকার আহ্বান
শুধু সিটি কর্পোরেশনের অভিযান নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাড়ির আঙিনা, ঝোপঝাড় ও জলাবদ্ধ স্থান পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে আছে কি না, সেদিকে নিয়মিত নজর দিতে বলা হয়েছে।
বিশেষ করে পুরোনো টায়ার, কৌটা, ডিমের খোসা, ডাবের খোল, ফুলের টব, বেসিনের নিচে, ফ্রিজ ও এসির পাশে কিংবা সানসেটে জমে থাকা অল্প পানিও এডিস মশার প্রজননস্থল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
কেসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কারও শরীরে জ্বর অনুভূত হলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে কেসিসির প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রেও যোগাযোগ করা যাবে।
এদিকে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় সরকারি গাইডলাইন অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন
জরুরি সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. মনিরুজ্জামান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস, শেখ মো. মাসুদ করিমসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিভিন্ন শাখার প্রধান এবং কনজারভেন্সি বিভাগের ওয়ার্ড সুপারভাইজাররা উপস্থিত ছিলেন।

