খুলনা ব্যুরো:
খুলনায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘বাংলাদেশ প্রোটিন কুকিং চ্যালেঞ্জ-২০২৬’-এর আঞ্চলিক বাছাই পর্ব। রান্নার প্রতিযোগিতার পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে সহজলভ্য ও পুষ্টিকর প্রোটিনের ব্যবহার বাড়ানোর বার্তাই ছিল দিনব্যাপী এই আয়োজনের মূল সুর।
শনিবার (১৫ আগস্ট) খুলনা শহরের দ্য গ্র্যান্ড খুলনা হোটেলে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক এ পর্বের আয়োজন করে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) ও ইউ.এস. সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (ইউএসএসইসি)।
খুলনা অঞ্চলের প্রতিযোগীদের রান্নার দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও পুষ্টিবোধের প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ঢাকার গ্র্যান্ড ফাইনালের টিকিট পেয়েছেন ছয়জন। আঞ্চলিক পর্বে সেরা হয়েছেন অর্নি শবনম। প্রথম রানার-আপ মিরাজুল ইসলাম এবং দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েছেন ডোনাল অর্ণব। এছাড়া চতুর্থ স্থান অর্জন করেছেন শাহরিয়ার পারভেজ, পঞ্চম নবনী ইসলাম এবং ষষ্ঠ হয়েছেন ইশিতা বিশ্বাস।
আঞ্চলিক পর্বের এই ছয় বিজয়ী এবার অংশ নেবেন ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের গ্র্যান্ড ফাইনালে। সেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নির্বাচিত প্রতিযোগীদের সঙ্গে হবে চূড়ান্ত লড়াই।
‘Nourish your plate with Protein’ এবং ‘More Protein, Better Bangladesh’—এই দুই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া রন্ধনশিল্পীরা মুরগির মাংস, ডিম ও সয়াবিনকে মূল উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে তৈরি করেন নানা ধরনের সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও ব্যতিক্রমী পদ। একই সঙ্গে কম খরচে দৈনন্দিন খাবারে প্রোটিনের উৎস যুক্ত করার বিষয়টিও উঠে আসে তাদের রান্নায়।
বিজয়ী বাছাইয়ে শুধু খাবারের স্বাদকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। রান্নার স্বাদ ও গুণগত মানের পাশাপাশি খাবারের পরিবেশন, পুষ্টিমান এবং প্রোটিনের সঠিক ব্যবহারও ছিল বিচারকদের মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।
প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শেফ টনি খান, রন্ধনবিশেষজ্ঞ রহিমা সুলতানা রিতা এবং পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান।
আয়োজকদের মতে, শারীরিক বৃদ্ধি, কর্মক্ষমতা ও মেধা বিকাশে প্রোটিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অনেক পরিবারের খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় প্রোটিনের পরিমাণ এখনও পর্যাপ্ত নয়। তাই মুরগির মাংস, ডিম ও সয়াবিনের মতো সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রোটিনের উৎসকে মানুষের প্রতিদিনের খাবারে আরও বেশি করে যুক্ত করার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আয়োজকরা জানান, সিলেট ও খুলনার আঞ্চলিক বাছাই পর্ব শেষ হয়েছে। এবার রাজধানী ঢাকায় হবে প্রতিযোগিতার বহুল প্রতীক্ষিত গ্র্যান্ড ফাইনাল। সেখানেই নির্ধারিত হবে ‘বাংলাদেশ প্রোটিন কুকিং চ্যালেঞ্জ-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের সেরা রন্ধনশিল্পী।
খুলনার আঞ্চলিক আয়োজনটি তাই কেবল রান্নার প্রতিযোগিতা হয়ে থাকেনি; বরং সুস্বাদু খাবারের সঙ্গে পুষ্টি ও সচেতনতার বার্তাকেও সামনে এনেছে এই আয়োজন।

