বাণিজ্য ডেস্ক:
কসমেটিকস পণ্য উৎপাদনে দেশের সেরা কোম্পানির স্বীকৃতি পেয়েছে রিমার্ক-হারল্যান। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় তিন দিনব্যাপী ‘কসমেটিকা ঢাকা’ প্রদর্শনীর শেষ দিনে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির প্যাভিলিয়নে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
সার্বিক বিবেচনায় দেশসেরা কসমেটিকস উৎপাদক কোম্পানি এবং সেরা প্যাভিলিয়নের স্বীকৃতির ক্রেস্ট রিমার্ক-হারল্যানের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেন প্রদর্শনীর আয়োজক স্কোয়াড মাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়সাল মুনিম। রিমার্কের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর মিজানুর রহমান ও হারল্যানের হেড অব মার্কেটিং হাবিবুল্লাহ হাবিব।
ফয়সাল মুনিম বলেন, কসমেটিকস শিল্পে রিমার্কের অবদান উল্লেখযোগ্য। আধুনিক উৎপাদন সক্ষমতার প্রদর্শন, ব্যতিক্রমী প্যাভিলিয়ন ডিজাইন ও পেশাদার উপস্থাপনা তাদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। রিমার্কের প্যাভিলিয়ন শুধু পণ্য প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কসমেটিকস শিল্পের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান, দর্শনার্থী, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে পাওয়া ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রিমার্ককে এ বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এ অর্জনকে দেশের কসমেটিকস উৎপাদন সক্ষমতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন রিমার্কের পরিচালক (ফার্মা) সুকান্ত দাশ। তিনি বলেন, ‘এ অর্জন শুধু রিমার্কের নয়, দেশের কসমেটিকস উৎপাদন সক্ষমতারও স্বীকৃতি। ১৬ দেশের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে রিমার্কের সেরা হওয়া দেশীয় উৎপাদকদের আরও উৎসাহিত করবে। নকল ও ভেজাল পণ্যের ভিড়ে ভোক্তাদের জন্য অথেনটিক পণ্য নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। এই অর্জন আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়েছে।’
রিমার্কের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর মিজানুর রহমান বলেন, প্রথমবারের মতো প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে এমন স্বীকৃতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির জন্য অনুপ্রেরণার। ভবিষ্যতে আরও আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন পণ্য নিয়ে মানুষের সামনে আসার পাশাপাশি বাংলাদেশের কসমেটিকস শিল্পের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
হারল্যানের হেড অব মার্কেটিং হাবিবুল্লাহ হাবিব বলেন, রিমার্কের পণ্য শুধু দেশের বাজারে সীমাবদ্ধ নেই; বিশ্বের বিভিন্ন বাজারেও তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নতুন এ স্বীকৃতি ভবিষ্যতের পথচলায় আরও উৎসাহ জোগাবে।
রিমার্কের এ অর্জনে শুভেচ্ছা জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এএসবিএমইবি)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের কসমেটিকস খাতে রিমার্কের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মানের কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার পণ্য উৎপাদনে দেশের সক্ষমতা বাড়ছে। রিমার্কের মতো দেশীয় প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কসমেটিকস রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারে।
প্রদর্শনীর শেষ দিনেও রিমার্কের প্যাভিলিয়নে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় ছিল। মডেল ও অভিনেত্রী নাজিফা তুষি, শার্লিন ফারজানা ও শবনম ফারিয়াসহ বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সার ও দর্শনার্থী প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন। এ সময় রিমার্কের কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য নিয়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়। তারকারা অথেনটিক পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রদর্শনীতে রিমার্কের বিভিন্ন গ্লোবাল ব্র্যান্ডের পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য ‘স্পিন অ্যান্ড উইন’ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। তিন দিনের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশে উৎপাদিত কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্যের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্যাকেজিং, প্রিন্টিং ও ইনগ্রেডিয়েন্টস সক্ষমতাও তুলে ধরা হয়।
নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যেও রিমার্কের প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং সক্ষমতা নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়। রিমার্কের হেড অব প্যাকেজিং মো. আলী রেজা জানান, প্রদর্শনী চলাকালে প্রিন্টিং, প্যাকেজিং ও করপোরেট সেলস খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাণিজ্যিক অর্ডার পাওয়া গেছে। নতুন উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতা ও বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরাও রিমার্কের উৎপাদিত পণ্য ও সক্ষমতা সম্পর্কে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
রিমার্ক সূত্র জানায়, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি), আন্তর্জাতিক মানের ফর্মুলেশন, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটির কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এসব পণ্য থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, উৎপাদন সক্ষমতা ও মান নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি হিসেবে রিমার্ক আইএসও, সিজিএমপি, বিএসটিআই হালাল সার্টিফিকেশন ও গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে।

