বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
রাজনীতি

দীর্ঘদিন দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের পর মির্জা ফখরুলের আবেগঘন বিদায়

রাজনীতি ডেস্ক:

বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে বুধবার তৈরি হয় আবেগঘন এক মুহূর্ত। দীর্ঘদিন দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের আগে সংসদীয় দলের সদস্যদের উদ্দেশে বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে নিজেকে সামলাতে পারেননি। বক্তব্যের একপর্যায়ে কয়েকবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সহকর্মীদের কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

ফখরুলের আবেগঘন বক্তব্যে সভাকক্ষের পরিবেশও ভারী হয়ে ওঠে। উপস্থিত সংসদ সদস্যদের কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, অল্প সময়ের বক্তব্যেই চার থেকে পাঁচবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দুপুর ২টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা।

সভা শুরুতে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটদানের পদ্ধতি সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের অবহিত করেন। একই সঙ্গে দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

চিফ হুইপ সংসদ সদস্যদের জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল নিজেও ভোট দেবেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে।

এরপর বক্তব্য দিতে ওঠেন মির্জা ফখরুল। শুরুতেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন তিনি। বক্তব্যে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। একই সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বিএনপিতে যোগদানের পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরবর্তীতে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কথাও তুলে ধরেন ফখরুল। দায়িত্ব পালনের সময়ে কোনো ভুল হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে সেজন্য ক্ষমা চান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, তিনি জীবন দিয়ে হলেও তার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে বঙ্গভবনে গেলে সংসদীয় দলের সহকর্মীদের মিস করবেন—এ কথা উল্লেখ করে সবার কাছে দোয়া চান ফখরুল। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য বিএনপির সংসদ সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানান।

ফখরুলের বক্তব্যের পর সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অনেক ত্যাগ ও মূল্য দেওয়ার পর বিএনপি আজকের অবস্থানে এসেছে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহির গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, দলের কঠিন সময়ে ফখরুল সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং কখনো দলের হাল ছেড়ে দেননি। রাজনৈতিক জীবনে তাকে কারাবন্দিও হতে হয়েছে। একই সময় নিজের দেশের বাইরে অবস্থানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত করতে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আবারও ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

তবে বৈঠকে শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নয়, সামনে থাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বার্তা দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে বলেন, অনেক এলাকায় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের দূরত্ব যাতে আরও বাড়তে না পারে, সেদিকে নজর দিতে হবে।

তারেক রহমান জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এ নির্বাচন বিএনপির জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। অতীতে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে একাধিক ব্যক্তি প্রার্থী হওয়ায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি এবার এমন পরিস্থিতি এড়াতে আগেভাগেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দেন।

স্থানীয় নির্বাচনে যোগ্য, জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার বক্তব্য ছিল—শুধু দলীয় পরিচয় নয়, স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে সামনে আনতে হবে এবং তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সব মিলিয়ে বিএনপির সংসদীয় দলের বুধবারের বৈঠকটি হয়ে ওঠে দুই ভিন্ন আবহের সমন্বয়। একদিকে ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আবেগঘন বিদায়, অন্যদিকে তারেক রহমানের সাংগঠনিক ঐক্য, দলীয় শৃঙ্খলা ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার নির্দেশনা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সংহতি ধরে রাখার পাশাপাশি পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সংগঠনকে প্রস্তুত রাখার বার্তাই বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছে।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493