রাজনীতি ডেস্ক:
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েই আলোচনার কেন্দ্রে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। তবে তাকে ঘিরে আলোচনার সূত্রপাত তার কোনো বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত থেকে নয়; জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিনের একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু ইঙ্গিতপূর্ণ ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মনিরা শারমিন লেখেন, ‘যদি তথ্য মন্ত্রণালয় পান, তাইলে মিডিয়ায় শ্বশুরবাড়ির প্রভাব না বাড়লেই মঙ্গল।’
পোস্টটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। বিশেষ করে একই দিনে মন্ত্রিসভায় প্রথম দফার রদবদলে আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হওয়ায়, মনিরার মন্তব্যের সঙ্গে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর যোগসূত্র আছে কি না তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করেছে বিএনপি সরকার। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ান। পরে রাতে তাদের দপ্তর বণ্টন করা হয়।
এ দফায় নতুন করে চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী সরকারে যুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আন্দালিব রহমান পার্থ।
আর দায়িত্ব বণ্টনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মনিরা শারমিনের ওই পোস্ট সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। তবে তার পোস্টে ‘শ্বশুরবাড়ি’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি। কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের নামও উল্লেখ করা হয়নি।
ফলে পোস্টটি কার উদ্দেশে করা হয়েছে কিংবা এর পেছনে কী প্রেক্ষাপট রয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তবে সময়ের ব্যবধান এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনের সঙ্গে পোস্টটির মিল থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা উঠে আসছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন সরাসরি কোনো নাম উল্লেখ না থাকায় মন্তব্যটির উদ্দেশ্য নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে মন্ত্রিসভায় নতুন দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম রাতেই আন্দালিব রহমান পার্থকে ঘিরে আলোচনায় যুক্ত হয়েছে ‘শ্বশুরবাড়ির প্রভাব’ প্রসঙ্গ। তবে মনিরা শারমিন নিজে বিষয়টি স্পষ্ট না করা পর্যন্ত এই পোস্টের প্রকৃত ইঙ্গিত কার দিকে সেটি আপাতত আলোচনার বিষয় হিসেবেই রয়ে যাচ্ছে।

