রাজনীতি ডেস্ক:
জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কমিটির সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তার অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও সরকারদলীয় কয়েকজন সদস্যের অনাগ্রহ ও অসহযোগিতার কারণে কমিটি কার্যকরভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। ফলে সংসদীয় নজরদারির গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটি ক্রমেই ‘আলংকারিক কমিটি’তে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, বৈঠকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাঠামোগত সংস্কার, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও এনবিআরের কর্মকর্তাদের ইতিবাচক অবস্থান থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো এজেন্ডাতেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
তার ভাষ্য, ‘সরকারদলীয় কয়েকজন সদস্য কমিটিকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে না দেখে অলংকারিক কমিটি হিসেবে নিয়েছেন।’
‘প্রস্তুতির অভাব’ থেকে সিদ্ধান্তহীনতা
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এটি শুধু দ্বিতীয় বৈঠকের চিত্র নয়। প্রথম বৈঠকেও সরকারদলীয় কয়েকজন সদস্য নিজেদের প্রস্তুতির অভাবের কথা জানিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বৈঠকেও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, কমিটির সভাপতি না হওয়া সত্ত্বেও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চিফ হুইপের অযাচিত হস্তক্ষেপ দেখা গেছে। এ ধরনের হস্তক্ষেপ সংসদীয় কমিটির স্বাধীন ও কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে ডিজিটাল সমন্বয়ের প্রস্তাব
বৈঠকে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমানো এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করার জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান এনসিপির এই নেতা।
এর মধ্যে অন্যতম হলো বন্দর, ব্যাংক ও এনবিআরের মধ্যে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তথ্যের দ্রুত আদান-প্রদান নিশ্চিত হলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে জটিলতা ও হয়রানি কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ ছাড়া—
- করের আওতা সম্প্রসারণ,
- কমলাপুর ডিপোর সক্ষমতা বৃদ্ধি,
- রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো,
- বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্যসমন্বয় জোরদার
—নিয়েও বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রশ্ন কার্যকারিতা নিয়ে
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো মূলত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, নীতিগত বিষয়ে সুপারিশ এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার পরও যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব না হয়, তাহলে কমিটির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।
হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রী ও এনবিআরের কর্মকর্তাদের ইতিবাচক অবস্থান থাকা সত্ত্বেও সদস্যদের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক আন্তরিকতার অভাবেই দ্বিতীয় বৈঠকটিও সিদ্ধান্তহীনভাবে শেষ হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো—পরবর্তী বৈঠকে কি এনবিআর সংস্কার, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত আসবে, নাকি সংসদীয় এই কমিটি কেবল আলোচনা ও উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

