রাজনীতি ডেস্ক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাসের আংশিক উপস্থাপনাকে পূর্ণাঙ্গ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ। তাঁর দাবি, এ ধরনের উপস্থাপনা ইতিহাস বিকৃতির শামিল।
শনিবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।
শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল পুরোনো ব্যবস্থা পরিবর্তন করে দেশ উপযোগী নতুন রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করা। তবে অভ্যুত্থানের সামনের সারির কিছু নেতা পুরোনো ব্যবস্থাকেই নতুন রূপে উপস্থাপন করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, এর প্রভাব জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উপস্থাপনাতেও পড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাসে ইসলামপন্থীদের ভূমিকা যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের ভূমিকা জাদুঘরের প্রদর্শনীতে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ফজলুল করীম মারুফ বলেন, আন্দোলনের একপর্যায়ে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের বক্তব্য ছাত্রসমাজকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করেছিল। আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর ১৯ জুলাই তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কর্মসূচিও জাদুঘরের প্রদর্শনীতে স্থান পায়নি বলে অভিযোগ করেন ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা। তাঁর দাবি, বিশেষ করে ৩, ৪ ও ৫ আগস্ট ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে অনুষ্ঠিত কর্মসূচি এবং ‘দফা এক, দাবি এক—শেখ হাসিনার পদত্যাগ’ স্লোগানের মতো ঘটনাগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে আংশিক প্রদর্শনীকে পূর্ণাঙ্গ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ইতিহাস বিকৃতির পাঁয়তারা।’ এ ধরনের উপস্থাপনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ইতিহাসকে বস্তুনিষ্ঠভাবে সংরক্ষণের আহ্বান জানান।
এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নগর সেক্রেটারি কেএম শরীয়াতুল্লাহ জাদুঘরের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য বড় প্রকল্প নেওয়া হলেও এর ব্যবস্থাপনায় নানা ঘাটতি রয়েছে।
কেএম শরীয়াতুল্লাহর অভিযোগ, জাদুঘরের টিকিটিং ও চেকিং ব্যবস্থায় দুর্বলতা রয়েছে এবং ইতিহাসের ‘কাটিং উপস্থাপন’ জনগণের মনে আঘাত দিয়েছে। এভাবে প্রকল্পটি পরিচালিত হলে ভবিষ্যতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইতিহাসকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হবে।
জাদুঘর পরিদর্শনকারী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রতিনিধি দলে নগর সহসভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারি ফজলুল হক মৃধা, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুফতি আবদুল আহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কামাল হোসাইন, তরিক মাসউদ, প্রচার সম্পাদক প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা গাজী নাজিমুদ্দীনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

