রাজনীতি ডেস্ক:
সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ জন্য দলের জেলা ইউনিটগুলোকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম স্বাক্ষরিত এক সাংগঠনিক নির্দেশনাপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন সম্ভব না হলে প্রাথমিকভাবে ১১ থেকে ১৫ সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা যাবে। পরে ওই কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে হবে।
ইতিমধ্যে যেসব উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেসব উপজেলায় কমিটি গঠন করা হবে, সেসব কমিটিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বয়সের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে দলটি। আহ্বায়কের বয়স ৪০ বছরের বেশি হতে হবে। সদস্যসচিবের বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে ভালো; তবে কোনোভাবেই ৩০ বছরের কম বয়সী কাউকে সদস্যসচিব পদে রাখা যাবে না।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যারা ইতিমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন অথবা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন, তাদের আহ্বায়ক কিংবা সদস্যসচিব পদে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া উপজেলা আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের মধ্যে অন্তত একজনের বাসা শহর বা শহরের আশপাশে হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দুজনেরই শহর বা শহরের আশপাশে বসবাস হলে তা আরও ভালো হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ও পরিচিত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা, সংগঠনের প্রতি আনুগত্য এবং ব্যক্তির পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
প্রতিটি উপজেলা কমিটিতে অন্তত ৫ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগোষ্ঠীর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর সব জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবকে নিজ নিজ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে লিখিত প্রতিবেদন দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুখ্য সংগঠকের কাছে ওই প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করা এবং স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি জোরদারের অংশ হিসেবেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

