রাজনীতি ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ইতিহাসের বিভিন্ন স্বৈরশাসকের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৌলিক পার্থক্য হলো তারা যতই নিষ্ঠুর ও রক্তপিপাসু হোক না কেন, রাষ্ট্রের সম্পদ লুট বা বিদেশে অর্থ পাচারের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্রের অর্থ, ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার ও সরকারি সম্পদ ব্যাপকভাবে লুণ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর গুলশানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং গত ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলার ও ইতালির বেনিতো মুসোলিনি মানবতার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধের জন্য ইতিহাসে ঘৃণিত। তারা জাতিগত নিধন চালিয়ে লাখো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। তবে তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল নিজেদের রাষ্ট্রকে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এর বিপরীতে শেখ হাসিনার শাসনের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল রাষ্ট্রের সম্পদ লুণ্ঠন, অর্থ পাচার এবং আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতি ভালোবাসার পরিবর্তে জনগণের সম্পদ ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করাই ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক এজেন্ডা। এ কারণেই তিনি তাঁকে ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ফ্যাসিস্ট হিসেবে উল্লেখ করেন।
আওয়ামী লীগের শাসনামল প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার আড়ালে ধীরে ধীরে দেশে একটি কঠোর ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে। জনগণকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে সেই ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে বিরোধী মত দমন এবং সহিংসতার পথ বেছে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক, শ্রমজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে শিশু থেকে শুরু করে নিরীহ সাধারণ মানুষও নিহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ছিল দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ। মানুষের ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভ বিস্ফোরণের মতো প্রকাশ পেয়েছিল, যা তৎকালীন সরকার উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়। তাঁর অভিযোগ, ধারাবাহিকভাবে বিতর্কিত ও একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেই সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ছিল সীমিত।
ভারতের দিল্লিতে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, একজন পলাতক ও বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া ভারতের দ্বৈত নীতির প্রতিফলন। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশে সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তির প্রতি ভারতের এমন অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ভারতের এমন ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি ভারতের স্বার্থের অনুকূলে থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা গুরুতর অভিযোগও উপেক্ষা করা হচ্ছে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের অবস্থানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে রিজভী আরও বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন চলছে, তা সফল করতে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখবেন।

