বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ ● ভারতীয় ইলিশকে দেশীয় বলে বিক্রি, যশোরে আড়তদারকে জরিমানা
রাজনীতি

পরিচয় গোপন করে যারা অপকর্ম ও দুর্নীতি করে, তারাই সবচেয়ে বড় গুপ্ত: জামায়াতের আমির

রাজনীতি ডেস্ক:

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নিজের পরিচয় গোপন করে যারা অপকর্ম ও দুর্নীতি করে, তারাই সবচেয়ে বড় ‘গুপ্ত’। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিমানবন্দরে এক প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কয়েক দিন আগে তিনজন ছিনতাইকারী একজন প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয়। ছিনতাইয়ের সময় তারা নিজেদের আওয়ামী লীগের লোক পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়েছিল। পরে তাদের আটক করা হলে তারা বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচয় পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ‘এরা গুপ্ত। যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, দুর্নীতি করে, সেই হচ্ছে সবচেয়ে বড় গুপ্ত।’

‘ছয় মাসে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হয়নি’

জামায়াত আমির বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ দুটি ভোট দিয়েছিল। একটি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচনের উদ্দেশ্যে। একই ব্যক্তিকে দুটি ভোট দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারি দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিএনপিও এ কথা বলেছিল, জামায়াতও বলেছিল। কিন্তু ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওই সময় দেশের মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল। তারা আশা করেছিল, বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না, আদালতে গিয়ে মানুষ শোষণ-বঞ্চনার শিকার হবে না এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতি নির্মূল হবে। কিন্তু এসব প্রত্যাশার কোনোটি পূরণ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

‘চারদিকে হাহাকার’

জামায়াত আমির বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো একসময় বলেছিল, অনির্বাচিত সরকার যত দ্রুত বিদায় নেবে, দেশের তত মঙ্গল হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অনির্বাচিত সরকারের সময় মানুষ যে সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল, এখন কি সেসব সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে?

তিনি বলেন, ‘এখন গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ না থাকলেও বিদ্যুতের বিল আসছে। গ্যাস দেবে না, কিন্তু গ্যাসের বিল জমা দিতে হচ্ছে। তেল পাই না, জ্বালানি পাই না। চারদিকে হাহাকার।’

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, সমাজে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাস ও হানাহানি চলছে। দলীয় আনুকূল্য ও প্রশ্রয়ে সরকারি দলের লোকেরা সন্ত্রাস, চুরি ও ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

১১ দলীয় জোটের ছয় দফা দাবি

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে ১১ দলীয় জোট ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের কর্মসূচি পালন করে। এর শেষ কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জোটের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493