রাজনীতি ডেস্ক:
রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে মনোনীত করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক থেকে তার নাম ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জোটের নেতৃবৃন্দ ও দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কর্নেল অলি আহমদ। তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের জন্য কাজ করে আসছেন এবং তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই।
অলি আহমদ বলেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কোনো প্রশ্ন নেই। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ১১ দলীয় জোটের নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে তার নাম প্রস্তাব করেছেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করায় আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি পরীক্ষিত ব্যক্তি। আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই।’
দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান থেকে তিনি কখনো দেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জায়গা থেকে এই জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করব না, ইনশাআল্লাহ। মানুষের জন্য যেটা ভালো, আমরা হারব বা জিতব—এটা প্রশ্ন নয়। জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমরা সবসময় পাশে দাঁড়াব।’
নিজের মনোনয়নকে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে জোট ও জনগণের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, ‘আমি ১১ দলের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ, বাংলাদেশের জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞ।’
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

