রাজনীতি ডেস্ক:
জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ই জামায়াত-শিবির আওয়ামী লীগের কথিত রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ করছে এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা দেখাবে না।
এক বিবৃতিতে রাশেদ খান বলেন, কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার পর জামায়াত-শিবিরের দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থানকে তিনি ‘পেশিশক্তির মহড়া’ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্য, সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কারণে জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রাশেদ খান বলেন, অতীতে বিরোধী দলগুলোকে সাধারণত মজলুম ও তুলনামূলকভাবে বিনয়ী অবস্থানে দেখা গেলেও জামায়াতের বর্তমান আচরণে সেই চিত্র আর মিলছে না। পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তার দাবি, জামায়াত-শিবির ধীরে ধীরে একটি ‘জালিম সংগঠনে’ পরিণত হচ্ছে।
গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে জামায়াতের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। রাশেদ খান বলেন, দলের কোনো নেতাকর্মী ভবিষ্যতে টক শো বা বক্তব্যে জামায়াতের পক্ষে ‘বয়ান’ দেবেন না এমন প্রত্যাশা রয়েছে তার।
একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গণঅধিকার পরিষদের ভূমিকা তুলে ধরে রাশেদ খান দাবি করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও রাজপথের সংগ্রামে জামায়াতের তুলনায় গণঅধিকার পরিষদের অবদান বেশি। তার বক্তব্য, জামায়াত যখন প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুপস্থিত ছিল, তখন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে যে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান দেখা যাচ্ছে, সেটিকে ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের ইতিহাস বদলে ফেলা সম্ভব নয়।
বিবৃতির শেষাংশে জামায়াত ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেলের গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের নিন্দা জানান রাশেদ খান। একই সঙ্গে কুষ্টিয়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা ও ভিন্নমতের প্রতি সম্মান বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তার বক্তব্যে উঠে আসে।

