রাজনীতি ডেস্ক:
রাজধানী থেকে দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে লংমার্চ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ৬ আগস্ট ১১ দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দাবিতে সারাদেশে চারটি লংমার্চ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম লংমার্চ হবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট রুটে কর্মসূচি পালন করা হবে।
জামায়াত জানিয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-রংপুর ও ঢাকা-খুলনা লংমার্চ সড়কপথে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে ঢাকা-সিলেট কর্মসূচি হবে রেলপথে। চারটি লংমার্চের ধারাবাহিক কর্মসূচি শেষে আগামী ১৪ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বৈঠকে লংমার্চ সফল করতে সাংগঠনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়। কর্মসূচিগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নির্ধারিত রুটের সংশ্লিষ্ট এলাকার দলীয় নেতাকর্মী, জনশক্তি এবং সাধারণ মানুষের প্রতি কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৈঠকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মো. রেজাউল করিম এবং বিভিন্ন অঞ্চল ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের নেতারা বলছেন, ঘোষিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে এখন মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সাংগঠনিক সমন্বয়, জনসম্পৃক্ততা এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করার প্রস্তুতিতে।

