আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরু হলে এবার আগের যেকোনো সংঘাতের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, আইআরজিসি মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন মোহেব্বি বলেছেন, সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের কথা মাথায় রেখে ইরান শুধু অস্ত্রভাণ্ডার সমৃদ্ধই করছে না, তৈরি করছে নতুন প্রজন্মের আরও শক্তিশালী অস্ত্র ও ওয়ারহেড।
মোহেব্বির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত বর্তমান ওয়ারহেডগুলোর ধ্বংসক্ষমতা আগের যুদ্ধগুলোতে ব্যবহৃত অস্ত্রের তুলনায় অনেক বেশি। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়াও হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার।
তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের অস্ত্রগুলোতে এমন ওয়ারহেড যুক্ত করা হচ্ছে, যা আরও নিখুঁতভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও আঘাতের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও চলছে।
আইআরজিসি মুখপাত্র আরও জানান, সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় ইরান অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করেনি। বরং যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশটি ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং সামগ্রিক সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক সক্ষমতা জোরদারের তথ্য সামনে এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের এই বার্তা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত প্রশমনে আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের কথা সামনে এলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়।
নতুন অস্ত্র, আরও নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র এবং বাড়তি ধ্বংসক্ষমতার এই বার্তা দিয়ে ইরান মূলত জানিয়ে দিল—নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তারা আগের যুদ্ধের মতো কৌশল নিয়ে মাঠে নামবে না; বরং প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে নতুন ও আরও শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা।

