খুলনা ব্যুরো:
খুলনার কয়রা উপজেলার সিংহেরটেক এলাকায় রাই নদীতে ঘুরতে এসে হঠাৎ নৌকাডুবির শিকার হন ৯ পর্যটক। কেউ ডুবে যাওয়া নৌকা আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ নদীর মধ্যে থাকা গাছের ডাল ধরে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নৌ-পুলিশের একটি টহল দল তাদের সবাইকে জীবিত উদ্ধার করেছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাই নদীর সিংহেরটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নৌ-পুলিশ জানায়, আংটিহারা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল দল দিবাকালীন নৌ টহলে থাকা অবস্থায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পায়, কয়রা থানার সিংহেরটেক এলাকায় কয়েকজন পর্যটকসহ একটি কাঠের ইঞ্জিনচালিত নৌকা নদীতে ডুবে গেছে।
খবর পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় টহল দলটি। আংটিহারা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এসআই এস এম দিদারুল ইসলামের নেতৃত্বে এএসআই মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেনসহ পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।
ঘटनাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারীরা দেখতে পান, তিনজন ব্যক্তি ডুবে যাওয়া নৌকাটি ধরে নদীতে ভাসছেন। আর অপর ছয়জন নদীর মধ্যে থাকা গাছের ডাল শক্ত করে ধরে ঝুলে আছেন। সময়মতো নৌ-পুলিশ পৌঁছে যাওয়ায় দ্রুত তাদের উদ্ধার করে টহল নৌকায় তোলা সম্ভব হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নৌকার মাঝি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নাপিতখালী এলাকার কিসমত আলী (৪৮)। এছাড়া উদ্ধার হওয়া পর্যটকরা হলেন নাঈম হোসেন (২২), রাকিবুল হাসান (১৮), মো. আশিক (২৫), মো. পলাশ হোসেন (২৩), মো. শাহীন (২৫), ইমামুল হোসেন (২৫), যশোরের বেনাপোল পৌরসভার কাগজপুকুর এলাকার মো. গালিব (২৫) ও মো. আব্দুল্যাহ (২২)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পর্যটকরা জানান, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে তারা সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নাপিতখালী এলাকা থেকে একটি কাঠের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে আংটিহারা ও সুন্দরবনের আশপাশের এলাকা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
দিনভর ঘোরাফেরা শেষে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তারা সিংহেরটেক এলাকায় রাই নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে হঠাৎ নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। মুহূর্তের মধ্যেই নৌকাটি নদীতে ডুবে যায়। এ সময় নৌকায় থাকা সবাই প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং নৌকা ও গাছের ডাল ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন।
আংটিহারা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক হোসেন বলেন, “নৌকাডুবির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে টহল দল পাঠানো হয়। উদ্ধারকারী দলের দ্রুত তৎপরতার কারণে ৯ জনকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা নিখোঁজের ঘটনা ঘটেনি। নৌকাডুবির কয়েক মুহূর্তের আতঙ্ক কাটিয়ে সবাই নিরাপদে ফিরে আসলেও, রাই নদীর মাঝখানে গাছের ডাল ও ডুবে যাওয়া নৌকা আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার সেই মুহূর্ত তাদের জন্য ছিল রীতিমতো মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা।

