রাজনীতি ডেস্ক:
জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার পর্যায়ে গেলে বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তাঁর দাবি, দলটি কখনো রাজনৈতিকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে দেশের পরিস্থিতি ‘ফিলিস্তিনের মতো’ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
নুরুল হক নুর জামায়াতে ইসলামীকে ‘হঠকারী’ ও ‘উগ্রবাদী গোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলটির ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, এমন একটি দল বর্তমানে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে অবস্থান নেওয়া দেশের জন্য ইতিবাচক নয়।
জামায়াতের নির্বাচনী সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নুর বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে জামায়াতে ইসলামী হয়তো সীমিত সংখ্যক আসন পেতে পারত। সে ক্ষেত্রে দলটি কীভাবে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতো—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জামায়াতের সঙ্গে বিদেশি কূটনীতিকদের সাম্প্রতিক যোগাযোগের বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন নুরুল হক নুর। তাঁর অভিযোগ, অতীতে যেসব কূটনীতিক জামায়াতের সঙ্গে এ ধরনের যোগাযোগে আগ্রহ দেখাননি, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাদের কেউ কেউ দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। এর পেছনে রাজনৈতিকভাবে দলটিকে আরও জায়গা করে দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে কি না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নুরের ভাষ্য, ভবিষ্যতে জামায়াতের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়লে সেটিকে কেন্দ্র করে দেশের উগ্রবাদ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নতুন ধরনের আলোচনা তৈরি হতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, এ ধরনের পরিস্থিতি সরকার ও বাংলাদেশের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
এ অবস্থায় জামায়াতে ইসলামী ইস্যুতে সরকারকে ‘শক্ত অবস্থান’ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নুরুল হক নুর প্রশ্ন রাখেন, জামায়াতের মতো একটি দলের রাজনৈতিক উত্থান বাংলাদেশের জন্য আদৌ কল্যাণকর হবে কি না।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব বক্তব্য নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও মন্তব্য হিসেবে এসেছে; জামায়াতে ইসলামী এ বক্তব্যের বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

