স্পোর্টস ডেস্ক:
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত জয়ে সিরিজে এগিয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর দল দ্বিতীয় ম্যাচের শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। তবে দিনের শেষ ভাগে শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিং কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে বাংলাদেশ শিবিরে।
বাংলাদেশের ৬৪ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকেও স্বস্তিতে থাকতে দেননি শরিফুল। একাই তুলে নিয়েছেন ৬টি উইকেট। তাঁর আগ্রাসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ওপর তৈরি হয়েছে চাপ। ফলে একতরফা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকা ম্যাচে দিনের শেষ দিকে নতুন করে লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে শরিফুলও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ম্যাচের ফল এখনই নির্ধারিত হয়ে যায়নি। তাঁর মতে, প্রথম দিনটি বাংলাদেশের জন্য ব্যাট হাতে খারাপ গেলেও ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এখনো রয়েছে।
শরিফুল বলেন, ‘এখনও খেলা শেষ হয়নি। কেবল প্রথম দিন গেল। ব্যাটিংয়ে আজ আমাদের একটি খারাপ দিন গেছে। তবে তাদের ব্যাটাররাও নিজেদের কন্ডিশনেই অনেক সংগ্রাম করছে। দেখা যাক কী হয়, আমরা দ্বিতীয় ইনিংসে কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে পারি।’
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের পেছনে নতুন বলের সুইংকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন এই পেসার। তাঁর ব্যাখ্যায়, শুরুতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ওভার পর্যন্ত বল বেশ ভালোভাবে সুইং করেছে। অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা সেই সুবিধা কাজে লাগিয়েই বাংলাদেশের ব্যাটারদের চাপে ফেলেছে।
শরিফুলের ভাষায়, ‘নতুন বলে সুইং করছিল, প্রায় ২০-২৫ ওভার পর্যন্ত। ওরা সেই সুবিধা কাজে লাগিয়েছে। আমরা হয়তো পরবর্তী ইনিংসে চেষ্টা করব আমাদের ব্যাটসম্যানরা যাতে ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।’
প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়াকে অবশ্য অতিরিক্ত চাপ হিসেবে দেখছেন না শরিফুল। তাঁর মতে, কন্ডিশন ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ ছিল না এবং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদেরও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য একটি খারাপ দিন ছিল। শুধু আমাদের নয়, তারাও কিন্তু সংগ্রাম করছে। ইনশাআল্লাহ, পরবর্তী ইনিংসে আমরা ভালো করব।’
প্রথম দিনের ব্যাটিং ব্যর্থতা বাংলাদেশকে বড় চাপে ফেললেও শরিফুলের ছয় উইকেট ম্যাচের সমীকরণে কিছুটা আশা ফিরিয়েছে। এখন বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া। প্রথম টেস্টের সাফল্যের পর দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

