ধর্ম ও জীবন ডেস্ক:
হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আনুগত্যের যে অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছিল, তা ইসলামের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। সেই ঘটনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা কুরাইশদের সামনে তুলে ধরেছিলেন উরওয়া ইবনে মাসউদ আস-সাকাফি (রা.)।
হুদাইবিয়ার সন্ধির আলোচনা করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসেছিলেন উরওয়া। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি বারবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দাড়ি মোবারকে হাত দিচ্ছিলেন। বিষয়টি লক্ষ্য করছিলেন সেখানে প্রহরারত মুগিরা ইবনে শুবা (রা.)। উরওয়া যখনই দাড়ি মোবারকের দিকে হাত বাড়াচ্ছিলেন, মুগিরা (রা.) তাঁকে সতর্ক করে হাত সরিয়ে দিচ্ছিলেন।
ঘটনাটি উরওয়ার কাছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সাহাবিদের গভীর শ্রদ্ধার এক জীবন্ত চিত্র তুলে ধরে। পরে কুরাইশদের কাছে ফিরে গিয়ে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানান।
উরওয়া বলেন, তিনি কিসরা, কায়সার ও নাজাশির দরবারে গিয়েছেন। কিন্তু কোনো শাসকের সঙ্গীদের মধ্যে তাদের নেতার প্রতি এমন গভীর শ্রদ্ধা ও আনুগত্য তিনি দেখেননি, যেমনটি মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবিদের মধ্যে দেখেছেন।
তিনি আরও জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো নির্দেশ দিলে সাহাবিরা তা পালনে দ্রুত এগিয়ে যেতেন। তিনি অজু করলে তাঁর অজুর পানি নেওয়ার জন্য সাহাবিদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মতো অবস্থা তৈরি হতো। তাঁর সামনে কথা বলার সময় সাহাবিরা কণ্ঠস্বর নিচু রাখতেন এবং গভীর সম্মানের কারণে তাঁর দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকাতেন না।
এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার পর উরওয়া কুরাইশদের রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে সন্ধিতে সম্মত হওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তৎকালীন আরব সমাজে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সাহাবিদের ভালোবাসা ও আনুগত্যের গভীরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অজুর পানির বরকতের ঘটনাও বর্ণিত হয়েছে হাদিসে। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি অসুস্থ অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাক্ষাৎ পান। তখন তাঁর অবস্থা এমন ছিল যে তিনি কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) অজু করলে সাহাবিরা তাঁর অজুর পানি জাবির (রা.)-এর ওপর ঢেলে দেন। এরপর তিনি জ্ঞান ফিরে পান।
ইমাম বুখারির বর্ণনায় হুদাইবিয়ার ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৭৩১-এ এবং জাবির (রা.)-এর ঘটনাটি সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬৭৪৩-এ পাওয়া যায়।
যে শিক্ষা পাওয়া যায়
এই ঘটনাগুলো থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের অসাধারণ ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্যের পরিচয় পাওয়া যায়। একই সঙ্গে হাদিসের বর্ণনাগুলোতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় ও তাঁর অজুর পানির মাধ্যমে বরকতের ঘটনাও উল্লেখ হয়েছে।
সাহাবায়ে কেরামের এই আচরণ ছিল শুধু আবেগের প্রকাশ নয়; বরং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি তাঁদের ঈমান, ভালোবাসা এবং তাঁর নির্দেশ পালনের গভীর প্রত্যয়ের প্রতিফলন।

