রাজনীতি ডেস্ক:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু), ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতারা। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নেতা আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। জকসুর প্রতিনিধিদের দাবি, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন জকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবা উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি ইউজিসি চেয়ারম্যানের নজরে আনতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের সময় তাদের আটকে দেওয়া হলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর নেতারা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও অন্যান্য প্রতিনিধিরা অডিটোরিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তাদের বাধা দেন। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসানকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে বলে ভিডিওতে দেখা যায়। একই সময় অডিটোরিয়ামের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে উঠে এসেছে।
সংঘর্ষের পর অডিটোরিয়ামের সামনে ছিঁড়ে ফেলা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন জকসুর নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করতেই তারা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ নিজের ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করে লেখেন, “প্রক্টর ছাত্রদল হয়ে গেছে নাকি ছাত্রদল প্রক্টরের ভূমিকায়? আমন্ত্রণ জানিয়েও অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা। ধাক্কাধাক্কি করা শুধু ছাত্রদলের দ্বারাই সম্ভব।”
অন্যদিকে জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি জকসুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

