স্পোর্টস ডেস্ক:
বিশ্ব সাইক্লিং সংস্থার পাঠানো বাংলাদেশ জাতীয় দলের জন্য ১২টি জার্সি সেট প্রায় দেড় মাস ধরে বিমানবন্দরের কাস্টমস গুদামে আটকে আছে। জার্সিগুলো উপহার হিসেবে পাঠানো হলেও সেগুলো ছাড়িয়ে নিতে বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের কাছে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা শুল্ক দাবি করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
তবে উপহার হিসেবে পাওয়া জার্সির জন্য এত টাকা শুল্ক দিতে রাজি নয় বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশন। কয়েক দফা যোগাযোগ ও দৌড়ঝাঁপ করেও এখন পর্যন্ত জার্সি সেটগুলো ছাড়িয়ে আনতে পারেনি সংস্থাটি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অবস্থান—নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধ ছাড়া পণ্য খালাস দেওয়া সম্ভব নয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য জার্সিগুলোর নকশা করে বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশন। পরে নকশাটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় ইন্টারন্যাশনাল সাইক্লিস্ট ইউনিয়নের কাছে। অনুমোদনের পর বিশ্ব সাইক্লিং সংস্থাটিই জার্সিগুলো তৈরি করে উপহার হিসেবে বাংলাদেশে পাঠায়।
তবে বিপত্তি দেখা দেয় প্যাকেটের গায়ে পণ্যের মূল্য উল্লেখ করা নিয়ে। পাঠানো জার্সি সেটগুলোর ওপর মূল্য হিসেবে লেখা ছিল ১ হাজার ৮০০ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকার সমপরিমাণ।
বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের দাবি, জার্সিগুলো উপহার হিসেবে পাঠানো হলেও উৎপাদন বা প্রস্তুত খরচের হিসাব হিসেবে ওই মূল্য উল্লেখ করা হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেটিকে পণ্যের মূল্য হিসেবে বিবেচনা করে শুল্ক নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন। তাদের দাবি, পণ্যের মূল্যের প্রায় সমপরিমাণ অর্থই ভ্যাট ও শুল্ক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সমস্যা সমাধানে ইন্টারন্যাশনাল সাইক্লিস্ট ইউনিয়ন পরবর্তীতে বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনকে একটি চিঠি পাঠায়। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, জার্সিগুলো বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে চিঠিটি কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে দেখানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে জার্সি সেটগুলো শুল্কমুক্ত বা বিশেষ ব্যবস্থায় ছাড়িয়ে আনতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের দ্বারস্থ হয়েছেন বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ হাসান।
পারভেজ হাসান বলেন, “আমি প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে বলেছি, আমাদের ১২টি জার্সি এসেছে। কিন্তু আমরা সেগুলো ছাড় করাতে পারছি না। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এটার ওপর ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ট্যাক্স ধরেছে।”
তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, বিষয়টি বিবেচনা করে জার্সিগুলো শুল্ক ছাড়ে পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ও বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি ফেডারেশনগুলোর বিদেশ থেকে আনা বিভিন্ন ক্রীড়া সরঞ্জামের তথ্য দিতে বলেছেন এবং এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা করে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম করমুক্ত বা সহজ শর্তে আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।”
তবে কাস্টমস আইন অনুযায়ী, কোনো পণ্যকে ‘উপহার’ বা ‘গিফট’ হিসেবে ঘোষণা করলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুল্কমুক্ত হয়ে যায় না। কোনো পণ্য বিনামূল্যে পাঠানো হলেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বা ‘অ্যাসেসেবল ভ্যালু’ নির্ধারণ করে প্রযোজ্য শুল্ক ও কর আরোপ করতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা আগে থেকে প্রয়োজনীয় অব্যাহতি, ছাড়পত্র বা বিশেষ সরকারি প্রজ্ঞাপন (এসআরও) গ্রহণ করে থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে পণ্য শুল্কমুক্তভাবে খালাসের সুযোগ থাকতে পারে।
এখন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের জাতীয় দলের জন্য পাঠানো জার্সি সেটগুলো শেষ পর্যন্ত শুল্ক ছাড়ে কাস্টমস থেকে খালাস করা সম্ভব হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।

