নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:
অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ। তিনি বলেছেন, অপরাধীদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় ও অর্থের জোগান দেন, তাদেরও কোনো ক্ষমা নেই। অপরাধী যে-ই হোক, যেখানেই থাকুক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) খুলনা র্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন র্যাব মহাপরিচালক। সুন্দরবনের ৫৯ জন বনদস্যুর আত্মসমর্পণ, তাদের কাছ থেকে ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি খুলনাসহ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
আহসান হাবিব পলাশ বলেন, ‘সুন্দরবনে শান্তি ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিষয়ে খোঁজ রাখছি। অপরাধীদের অর্থের জোগানদাতা এবং আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের কেউই পার পাবেন না।’
তিনি বলেন, ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আত্মসমর্পণকারী ৩২৮ জন দস্যুর মধ্যে ৩০ জন আবার অপরাধজগতে ফিরে গেছেন। তাঁদের মধ্যে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত আটজনও রয়েছেন।
র্যাবের মহাপরিচালকের ভাষ্য, সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা কারণ এবং হয়রানির আশঙ্কাসহ বিভিন্ন কারণে কেউ কেউ আবার অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। আবার কিছু মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতাও রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে দস্যুদের আত্মসমর্পণের ক্ষেত্রে র্যাবের সাফল্য উল্লেখযোগ্য।
আত্মসমর্পণকারী এবং ভবিষ্যতে যারা আত্মসমর্পণ করবেন, তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এবার আগের তুলনায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আহসান হাবিব পলাশ বলেন, ‘খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে সরকারের কাছ থেকে এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা পেয়েছি।’
আত্মসমর্পণ করলেন ৫৯ বনদস্যু
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকারী ৫৯ জনের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতার বাহিনীর আটজন এবং মিজান বাহিনীর সাতজন রয়েছেন।
সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব বনদস্যুর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে র্যাব। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও সাতটি ওয়াকিটকি।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটার গান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান এবং একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল।
সুন্দরবনে ‘অপারেশন রি-স্টার্ট, পিস ইন সুন্দরবন’
র্যাব সূত্র জানায়, সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে র্যাব, কোস্টগার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, নৌপুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে ‘অপারেশন রি-স্টার্ট, পিস ইন সুন্দরবন’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গত ২ মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ অভিযান চলছে।
র্যাব মহাপরিচালক জানান, বর্তমানে সুন্দরবনে চার থেকে পাঁচটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যদের অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তিনি বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

