বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
খুলনা বিভাগ

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খুলনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

খুলনা ব্যুরো:

খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক আয়োজন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বুধবার (০৫ আগস্ট) দিনের কর্মসূচির শুরুতে নগরীর শিববাড়ি জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের স্মরণ করা হয়। এ সময় জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাইযোদ্ধা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ও মহানগর ইউনিট, সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ও এস কে আজিজুল বারী, বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে নগরীর বসুপাড়া কবরস্থানে জুলাই শহিদ শেখ সাকিব রায়হানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো ও বিশেষ দোয়া করা হয়।

পরে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তি ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তরুণদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি দায়িত্বশীলদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনিয়ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। এতে পুলিশ কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, শহিদ শেখ সাকিব রায়হানের বাবা শেখ আজিজুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আহত ব্যক্তি, শহিদ পরিবারের সদস্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

দিবসটি উপলক্ষে নগরীর শিববাড়ি মোড়, শহিদ হাদিস পার্ক, ময়লাপোতা, জোড়াগেট, গল্লামারী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, রূপসা মোড়, নতুন রাস্তা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শহিদ হাদিস পার্ক ও শিববাড়ি মোড়ে চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

বাদ যোহর জেলার মসজিদগুলোতে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে শহিদদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

খুলনা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এছাড়া খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে জেলার সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জাদুঘরগুলো দিনব্যাপী দর্শনার্থীদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়। শিশুদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রেও বিনা টিকিটে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।

দুপুরে সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশু পরিবার, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, ডে-কেয়ার ও ভবঘুরে আশ্রয়কেন্দ্রে বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। এছাড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও বর্ণিল সাজসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আলোকসজ্জা ও গ্রাফিতি অঙ্কনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি আরও বর্ণিল হয়ে ওঠে। একই ধরনের কর্মসূচি জেলার সব উপজেলা পর্যায়েও পালন করা হয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493