খুলনা প্রতিনিধি:
ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুলনায় বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে মশারি বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার দৌলতপুরে সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত ‘মশারি বিতরণ কর্মসূচি-২০২৬’-এ বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে চলবে না; এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সহসভাপতি মুন্নি আক্তার। সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা খন্দকার জহিরুল ইসলাম এবং উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক সেখ মোহাম্মদ আলী। শিশু সাংবাদিক অসফিয়া আহম্মেদও অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় অংশ নেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খন্দকার জহিরুল ইসলাম বলেন, সমবায় প্রতিষ্ঠান শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যম নয়, মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সাংবাদিক তানভীর তপন বলেন, ডেঙ্গু এখন শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, এটি সামাজিক সচেতনতারও বড় পরীক্ষা। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, সমবায় প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু মশারি বিতরণ নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মুন্নি আক্তার বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অন্যতম লক্ষ্য। ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব নয়; এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। একটি মশারি একটি পরিবারকে সুরক্ষা দিতে পারে, আর একটি সচেতন পরিবার একটি সমাজকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পারে।
অনুষ্ঠানে সমিতির ম্যানেজার সুরঞ্জন কুমার মন্ডল, এবিএম মহিতুজ্জামান, সহকারী ম্যানেজার লিটন মন্ডল, সাংবাদিক শরীফুল হোসেন, নাছরিন, তানিয়া, তন্দ্রা, মাবিয়া, সাজু খানসহ সমিতির সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

