খুলনা প্রতিনিধি:
পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেশজুড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।
তিনি বলেন, সবুজায়ন বৃদ্ধি, বনভূমি সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় খুলনার কয়রা উপজেলার বেদকাশী কাছারিবাড়ির ঐতিহ্যবাহী বটতলায় উত্তর বেদকাশী বৃক্ষ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বৃক্ষ মেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সরদার মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কমিটির সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম।
এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় এই অঞ্চলে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশ ও পতিত জমিতে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। এ কর্মসূচিকে সফল করতে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।
তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়, বায়ুদূষণ, বন্যা, খরতাপ ও নদীভাঙনের মতো পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে সবুজায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কয়রা-পাইকগাছা এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। কয়রা-পাইকগাছাকে শুধু আধুনিক নয়, অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। ইতিমধ্যে হাসপাতাল, স্টেডিয়াম, স্কুল ও কলেজের নতুন ভবন নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের কাজও এগিয়ে চলছে। যৌক্তিকতা বিবেচনায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও জাতীয়করণ করা হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাইকগাছা ও খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম শামীম কবির, ডা. আব্দুল মজিদ, নূরুল আমিন বাবুল, এম এ হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী ও জেলা জাসাসের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহিদ।
এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের মধ্যে মনিরুজ্জামান বেল্টু, জি এম মাওলা বক্স, শরিফুল আলম, আব্দুস সামাদ, অধ্যাপক আবুল কালাম, জিএম রফিকুল, হাবিবুর রহমান, নাজমুল হুদা, সালাউদ্দিন লিটন, সাইফুজ্জামান, আইয়ুব আলী, রওশন মোল্লা, গোলাম রসুল, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা আইয়ুব হোসেন, জিএম রাসেল ইসলাম, জাহিদুর রহমান শোভন, পীর আলী, মোহতাসিম বিল্লাহ, জামাল জাফরিন, ডিএম হেলালউদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ কাজল, আরিফ বিল্লাহ সবুজ, মামুন হাসান, এহসানুল ইছান ও জুবায়ের হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষ মেলায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। আয়োজকেরা জানান, উত্তর বেদকাশীর এই ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ মেলা ২৬ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারের মেলায় উপজেলার বিভিন্ন নার্সারি শতাধিক স্টলে ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা নিয়ে অংশ নিয়েছে।
পরে এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন প্রজাতির চারার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদ মেলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
বৃক্ষ মেলার কার্যক্রম শেষে তিনি কয়রা সেন্ট্রাল হাসপাতাল উদ্বোধন করেন। পরে কয়রা উপজেলা জামে মসজিদে গিয়ে মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

