বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
রাজনীতি

ছয় মাসে ৩১ দফা বাস্তবায়নে কতটা এগোল বিএনপি সরকার

ফাইল ফুটেজ

রাজনীতি ডেস্ক:

ক্ষমতায় আসার ছয় মাস পূর্ণ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এই সময়ে সরকারের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নে সরকার কতটা এগিয়েছে। কারণ, ৩১ দফাকে শুধু নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, সংবিধান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন, প্রশাসন ও নাগরিক অধিকারকে নতুন কাঠামোয় সাজানোর দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা হিসেবে তুলে ধরেছে দলটি।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ৩১ দফা এবং জুলাই জাতীয় সনদকে সামনে রেখে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকারের পাঁচ মাস পূর্তির সময়ও জনগণের আস্থা অর্জন, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষাকে সরকারের বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

বিএনপি নেতাদের দাবি, সরকার গঠনের পর ছয় মাসে ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে সরকার সফলতার পথেই রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি ও প্রশাসনের অনিয়ম, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের কাজও শুরু হয়েছে। সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করছেন দলটির নেতারা।

বিএনপি নেতারা আরও বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজনৈতিকভাবে সফল হয়েছেন। পরাজিত শক্তির প্রতি সহনশীলতা এবং রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনই সংসদীয় সভায় সংসদ সদস্যদের জন্য জমি ও শুল্কমুক্ত গাড়ি গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর ছিল মুসলিম-প্রধান দেশ মালয়েশিয়ায়। পরে প্রতিবেশী দেশ চীন সফর করেন তিনি। সরকারের দাবি, উভয় সফরেই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে দেশটিতে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের জটও খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। শিগগির স্বাস্থ্য কার্ড ও প্রবাসী কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

গুমের শিকার পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সরকারি তালিকা প্রণয়ন ও স্বীকৃতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন করে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্কার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কথাও জানিয়েছে সরকার।

এ ছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশে সময়োপযোগী পদক্ষেপ, যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে কর্মসূচি এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের যানজট নিরসনে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। নতুন পে-স্কেলের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে, যা শিগগির বাস্তবায়নের কথা বলা হচ্ছে।

বন্ধ ও অলাভজনক রাষ্ট্রীয় শিল্প-কারখানা চালু এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া শুরুর কথাও জানিয়েছে সরকার। আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বন্যার পূর্বাভাস ব্যবস্থার জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিজস্ব জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সৌর, বায়ু ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। আগের সরকারের সময়কার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দায়মুক্তি আইন বাতিল করা হয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধেও রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অধিকাংশ দফাই দীর্ঘমেয়াদি

বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কারে ৩১ দফাকে মূল ভিত্তি হিসেবে সামনে রাখা হয়েছে। তবে ৩১ দফার অধিকাংশই দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় মাত্র ছয় মাসে সব দফার দৃশ্যমান বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তাদের মতে, প্রশাসন, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে সময় প্রয়োজন। তবে এরই মধ্যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে এবং জনগণ এর ইতিবাচক ফল পেতে শুরু করেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। সরকার গঠনের পর ছয় মাসে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলতা অর্জিত হয়েছে। শতভাগ না হলেও সফলতা তার কাছাকাছি বলে দাবি করেন তিনি।

গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বর্তমান সংকট পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। বহির্বিশ্বের পরিস্থিতি ও এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। তারপরও সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। বাড়তি অর্থ দিয়ে এলএনজি কেনা হচ্ছে এবং এ খাতে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নে রিজভী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে সরকারকে প্রশাসন গুছিয়ে নিতে হয়েছে এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রস্তুত করতে হয়েছে। এ প্রস্তুতিতে সময় লাগে। পরবর্তী ছয় মাসে কর্মসূচিগুলো আরও জোরালোভাবে এগিয়ে নিয়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ছয় মাসের মধ্যেই এর অনেক কিছু দৃশ্যমান হয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বেশি কাজ সম্পন্ন করেছে। ৩১ দফা বিএনপির অঙ্গীকার এবং সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডে ৩১ দফার বিভিন্ন অংশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ দৃশ্যমান হলেও এর বড় একটি অংশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হবে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত, আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন। ফলে সরকারের পরবর্তী সময়ের কর্মকাণ্ডেই স্পষ্ট হবে, ঘোষিত ৩১ দফা কতটা কার্যকরভাবে রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনে রূপ নেয়।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493